Free Bus service for woman in bengal: বিনামূল্যে বাসে যেতে কী কী সঙ্গে রাখতে হবে মহিলাদের? জেনে নিন সবটা
Department of Transport: তবে এদিন বৈঠকে উপস্থিত কর্তারা বলেন, এই পরিচয় পত্র নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। কোনটা জাল কোনটা আসল, সেগুলো খতিয়ে দেখার সময় বা পরিস্থিতি কন্ডাক্টরের কাছে থাকে না। যদিও আপাতত এই ধরনের নিয়ম কানুন থাকলেও, ধীরে ধীরে পরিবহন দফতর থেকে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা মহিলাদের জন্য একটি 'পিঙ্ক কার্ড' ইস্যু করবে।

কলকাতা: আগামী ১ জুন থেকে মেয়েদের জন্য সরকারি বাসে যাতায়াত বিনামূল্যে। এমনকি কলকাতার রাস্তায় এবং রাজ্যে সরকারি বাস আরও বেশি করে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবহন দফতর। কিন্তু সরকারি বাস কোথায়? বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে রক্ষণাবেক্ষণ এবং নানাবিধ কারণে সরকারি বাস বসে গিয়েছে। নতুন সরকারের আমলে নতুন সরকারি বাস কীভাবে রাস্তায় নামানো যায়, তা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শুরু হল পরিবহন দফতরের ময়দান তাঁবুতে। শুধু তাই নয়, কারা-কারা বাসে উঠতে পারবেন তা নিয়েও একগুচ্ছ নির্দেশিকা। এমনকী, বাসে কী কী রাখতে হবে তাও প্রাথমিকভাবে ঠিক করা হয়েছে।
শুক্রবার, পরিবহন নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং পরিবহন দফতরের শীর্ষ কর্তারা সরকারি বাসের সঙ্গে যুক্ত কর্তা এবং আধিকারিকদের নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শুরু করেন। সেই বৈঠক শেষের পর সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত নিয়ে বেশ কিছু শর্তবিধি আরোপ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কী কী শর্ত আরোপ করা হয়েছে?
- বৈঠক সূত্রে খবর, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হলেই সেই মহিলারা বিনামূল্যে সরকারি বাসে যাতায়াত করতে পারবেন।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ওই মহিলা বাসিন্দা যে পশ্চিমবঙ্গের সেটা কন্ডাক্টর বুঝবেন কীভাবে?
- মূলত প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম অনুযায়ী যে ১১ টি পরিচয় পত্র প্রত্যেকটি মানুষের থাকে,তার মধ্যে একটি সরকারি বাসে যাতায়াতের সময় কাছে রাখতে হবে।
- কন্ডাক্টর বাধ্যতামূলকভাবে সেই পরিচয় পত্র দেখবেন। যতই ভিড় হোক না কেন, সেই পরিচয় পত্র দেখতে হবে কন্ডাক্টরকে।
- তারপর কন্ডাক্টর নিজের টিকিট পাঞ্চিং মেশিন থেকে একটি কুপন ইস্যু করবে ওই মহিলা যাত্রীর জন্য।
- প্রতিমাসে যে পরিমাণ টিকিট ইস্যু হবে, রাজ্য সরকার সমপরিমাণ টাকা গড় হিসেব ধরে পরিবহন দফতর বা নিগমকে দিয়ে দেবে।
তবে এদিন বৈঠকে উপস্থিত কর্তারা বলেন, এই পরিচয় পত্র নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। কোনটা জাল কোনটা আসল, সেগুলো খতিয়ে দেখার সময় বা পরিস্থিতি কন্ডাক্টরের কাছে থাকে না। যদিও আপাতত এই ধরনের নিয়ম কানুন থাকলেও, ধীরে ধীরে পরিবহন দফতর থেকে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা মহিলাদের জন্য একটি ‘পিঙ্ক কার্ড’ বা ‘স্মার্ট কার্ড’ ইস্যু করবে।
স্মার্ট কার্ডের আবেদনে কী কী লাগবে?
- স্মার্ট কার্ডে আবেদনের জন্য কিছু নথি লাগবে। এই নথিগুলি হল
- আধার কার্ড
- ভোটার পরিচয়পত্র (EPIC)
- ভি বি-গ্রামজি জব কার্ড (গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কার্ড)
- আয়ুষ্মান ভারত
- ড্রাইভিং লাইসেন্স
- প্যান কার্ড
- পাসপোর্ট
- ছবি-সহ পেনশনের নথি
- স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত সরকারি পরিচয়পত্র
- পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অন্য যে কোনও পরিচয়পত্র ও সাম্প্রতিক ছবি
স্মার্ট কার্ড বা পিঙ্ক কার্ডের জন্য কোথায় আবেদন করবেন?
পরিবহন দফতরের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, QR কোড সমৃদ্ধ স্মার্ট কার্ড ইস্যু করা হবে। এসডিও বা বিডিও-র কাছে আবেদন করে স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করা যাবে। কম ও বেশি যে কোনও দূরত্বে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন মহিলারা।
বাসে উঠে সেই পিঙ্ক কার্ড দেখালেই, কন্ডাক্টরদের আর পরিচয় পত্র দেখাতে হবে না। ওই কার্ডের বিনিময় কন্ডাক্টর কুপন ইস্যু করে দেবে।
কী কী আলোচনা হয়েছে?
তবে এই কার্ড তৈরি করা এবং বণ্টন করা সময় সাপেক্ষ বলেও পরিবহন দফতর সূত্র জানা গিয়েছে। ততদিন প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ হবে।
এছাড়াও সরকারি বাসের অপর্যাপ্ততা নিউ আলোচনা হয়েছে। ডিপোগুলিতে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সরকারি বাস পড়ে থাকা এবং পরিষেবার অভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
ধাপে ধাপে সরকারি বাস বৃদ্ধি করা হবে। বেহাল হয়ে থাকা বাসগুলিকে মেরামত করা হবে।
এছাড়াও নতুন সরকারি বাস কেনার ব্যাপারেও আলোচনা চলছে বলে এদিন বৈঠকে বক্তব্যে উঠে এসেছে।
