
কলকাতা: সল্টলেকে বিজেপির অফিসে সামনে শুধুই বেগুনি শাড়ি। বিজেপির অফিসে ঢোকার মুখে বসে রয়েছেন আশা কর্মীরা। শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবন অভিযানে এসে পুলিশের বাধা পেয়ে রাস্তাতেই বসে পড়েছেন আশা কর্মীরা। তারই মধ্যে বিজেপি অফিসে কোনওরকমে ঢুকছেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। তেমনভাবেই দলের অফিসে এদিন ঢুকতে দেখা গেল রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। আশা কর্মীদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে রাজ্য সরকারকে নিশানা করলেন। তবে তাঁরই সামনে আশা কর্মীদের একাংশ কেন্দ্রের বিরুদ্ধেও স্লোগান দিলেন।
গতকাল রাজ্য বাজেটে আশা কর্মীদের ১০০০ টাকা ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ১৮০ দিন মাতৃত্বকালীন ছুটি, কর্মরত অবস্থায় মৃত আশা কর্মীর পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। রাজ্যের এই ঘোষণায় খুশি নন আশা কর্মীরা। এদিন স্বাস্থ্য ভবনের সামনে জড়ো হন তাঁরা। ব্যারিকেড করে তাঁদের আটকায় পুলিশ। বাধা পেয়ে রাস্তাতেই বসে স্লোগান দিতে শুরু করেন আশা কর্মীরা।
এদিন সল্টলেকে বিজেপির অফিসের সামনেও বসে পড়েন তাঁরা। তখন দেখা যায়, কোনওরকমে পাশ কাটিয়ে হেঁটে দলের অফিসে ঢুকলেন শমীক। এরপর বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আশা কর্মীদের দাবির যৌক্তিকতা রয়েছে। তাঁদের আন্দোলনের প্রতি আমাদের সমর্থন রয়েছে। যে টাকায় তাঁদের কাজ করতে হয়, তাতে কাজ করা সম্ভব নয়। তাঁদের দাবি ন্যায়সঙ্গত, যুক্তিসঙ্গত। কেন্দ্রের কাছে আমরা জানিয়েছি, যে এই পরিস্থিতির মধ্যে মানুষ রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি জানেন। নতুন সরকার এসে ব্যবস্থা করবে।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “এই বাজেট সরকারি কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণার বাজেট। আশা কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণার বাজেট।”
শমীক যখন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন, তখন আশা কর্মীরা তাঁর উদ্দেশে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে বলুন, আমাদের গ্রুপ ডির মর্যাদা দিতে।” কেন্দ্রও তাঁদের সঙ্গে বঞ্চনা করেছে বলে স্লোগান দিতে থাকেন আশা কর্মীরা। এক আশা কর্মী বলেন, “আমাদের বলা হচ্ছে, এটা কেন্দ্রের প্রকল্প। যদি কেন্দ্রের প্রকল্প হয়, তাহলে তো কেন্দ্রেরও ভাবা উচিত। কেন্দ্র প্রতি বছর বাজেটে আমাদের জন্য কিছু বলছে না কেন? কেন রাজ্যের কাছে ভিক্ষা চাইতে আসতে হয়? আর রাজ্যের তো কেন্দ্রকে জানানো উচিত।”