Calcutta High Court: ‘১০ ঘণ্টা ধরে বললেও সন্তুষ্ট করতে পারবেন না…আদালতকে অ্যাবিউজ করছেন’, কণ্ঠস্বর নিয়ে আরও চাপে অভিষেক
Abhishek Banerjee Voice Sample: ডিজে মন্তব্য নিয়ে অভিষেকের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছিল, তাতে তদন্তের স্বার্থে কন্ঠস্বরের নমুনা চায় সিআইডি। বারবার দিন নির্দিষ্ট করা হলেও হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, ওই মন্তব্য যে তিনি করেছেন, তা কোথাও অস্বীকার করেননি তিনি। সে ক্ষেত্র কন্ঠস্বরের নমুনা দিতে হবে কেন?

কলকাতা: আদালত বারবার কন্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee)। রক্ষাকবচও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। তারপরও আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে নমুনা দিতে যাননি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। এবার কলকাতা হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ। নমুনা দিতে যেতেই হবে অভিষেককে। কোন ক্ষমতাবলে গত ৮ জুলাই হাজিরা এড়ালেন অভিষেক? কেনই বা আবার গেলেন আদালতে? সেই প্রশ্নও তুলেছেন বিচারপতি।
ডিজে মন্তব্য নিয়ে অভিষেকের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছিল, তাতে তদন্তের স্বার্থে কণ্ঠস্বরের নমুনা চায় সিআইডি। বারবার দিন নির্দিষ্ট করা হলেও হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, ওই মন্তব্য যে তিনি করেছেন, তা কোথাও অস্বীকার করেননি তিনি। সে ক্ষেত্রে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে হবে কেন? কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, তদন্তকারী সংস্থা অর্থাৎ সিআইডি-কে সাহায্য করতেই হবে অভিষেককে।
আদালতকে অ্য়াবিউজ (অসম্মান) করছেন: বিচারপতি
গত ৮ জুলাই বিধাননগর আদালতে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে বলা হয়েছিল অভিষেককে। হাজিরা এড়িয়ে গিয়ে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। শুক্রবার হাইকোর্টে সেই মামলা আদালতে উঠলে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, “আপনাকে ভয়েস স্যাম্পেল দিতেই হবে। না হলে আমি নিজেই অর্ডার রি কল (পরিবর্তন) করব। আপনারা আদালতকে অ্য়াবিউজ (অসম্মান) করছেন। যেটা হচ্ছে, সেটা ঠিক হচ্ছে না।”
রীতিমতো ভর্ৎসনা করে বিচারপতি বলেন, “আপনি ভয়েস দিন। ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ দেওয়ার পরেও যাননি কেন? কোনও মামলাই শুনব না। সম্পূর্ণ প্রটেকশন দেওয়া হয়েছিল। আপনি মামলা তুলে নিন।”
অভিষেকের বক্তব্য
অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য এদিন ফের একবার বলেন, “ভয়েস যে আমার, তা অস্বীকার করা হয়নি। কণ্ঠস্বর দেব না, সেটাও বলা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে কেন দিতে হবে। কারণ কণ্ঠস্বরের যে অন্য কারও সেটা বলা হয়নি। আমরা কখনও গোপন করিনি কিছু। মামলাকারীকে রক্ষাকবচ দিন।”
কোনও যুক্তিই শুনতে রাজি হননি বিচারপতি ভট্টাচার্য। বিচারপতি স্পষ্ট বলেন, “আপনি বাধ্য তদন্তকারী সংস্থাকে সাহায্য করতে।” অভিষেকের আইনজীবীকে বলেন, “আপনি ১০ ঘন্টা ধরে বলুন, কিন্তু আমাকে সন্তুষ্ট করতে পারবেন না।”
বিচারপতি উল্লেখ করেন, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নমুনা দিতে যেতে হবে না, এ কথা বলা হয়নি। আগামী ১৫ জুলাই দুপুর ১২টায় কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে যেতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আর সেদিন যাতে তাঁকে ডিম ছোড়া বা অন্য কোনও ভাবে হেনস্থা না করা হয়, সেই বার্তাও দিয়েছেন।
তবে নমুনা দিতে রাজি হলেও অভিষেকের তরফে আর্জি ছিল, তাঁর কণ্ঠস্বর যাতে অন্য কোনও মামলার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা না হয়। সেই আর্জিতেও আমল দেননি বিচারপতি।
