Calcutta High Court: ফেসবুকে জাত তুলে গালিগালাজ করলেও জুটবে শাস্তি! আইন মনে করিয়ে দিল হাইকোর্ট
Facebook Post: ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি তদন্তকারী সংস্থা একটি নিল বা নো ক্লু রিপোর্ট দেয়। কলকাতা পুলিশ দাবি করে, তারা সাইবার সেশনের মাধ্যমে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ব্যবহারকারীদের বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করলেও সেই তথ্য পাওয়া যায়নি।

কলকাতা: শুধুমাত্র সামনাসামনি গালিগালাজ করাই নয়, ডিজিটাল মাধ্যমে জাত নিয়ে অশালীন ও কুরুচিকর মন্তব্য করলেও আইনি পথে তার শাস্তি হবে। এক বিশেষ মামলায় একথাই মনে করিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। এক ব্যক্তি দুজনের বিরুদ্ধে জাতিগত অপমানের অভিযোগ তুলে মামলা করেছিলেন। পুলিশ সেই অভিযোগের ভিত্তিতে যা রিপোর্ট দেয়, তাতে কোনও অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে সেই যুক্তি যে খাটবে না, তা বুঝিয়ে দিল বিচারপতি উদয় কুমারের বেঞ্চ।
আবেদন খারিজ করেছিল আদালত
আলিপুরের বিশেষ আদালত ২০২৩ সালের ২৭ জুন অভিযোগকারীর আবেদন খারিজ করে দেয়। পুলিশের ফাইনাল রিপোর্টে যে ‘নিল’ লেখা হয়েছিল, সেটাকেই গ্রহণ করেছিল আদালত। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন আবেদনকারী।
আবেদনকারীর অভিযোগ ছিল রবিউল ইসলাম বুলবুল এবং সয়ন দত্ত নামে দুজনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছিল, ফেসবুকে ওই দুজন তাঁর জাতিগত পরিচয়, ধর্ম, ও পরিবার সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ, জাতিবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেছিলেন। অভিযোগের সঙ্গে তিনি ফেসবুক পোস্টগুলির স্ক্রিনশটও জমা দেন। এর ভিত্তিতে বেহালা থানায় এসসি-এসটি আইনের ৩(১)(আর)/(এস) ধারায় মামলা হয়।
তথ্য দেয়নি ফেসবুক
তদন্ত চলাকালীন পুলিশ অভিযোগকারীর জবানবন্দি রেকর্ড করে। স্ক্রিনশট ও ডিজিটাল লিঙ্কের তালিকা তৈরি করে। ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি তদন্তকারী সংস্থা একটি নিল বা নো ক্লু রিপোর্ট দেয়। কলকাতা পুলিশ দাবি করে, তারা সাইবার সেশনের মাধ্যমে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ব্যবহারকারীদের বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করলেও সেই তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষ আদালত এই যুক্তিতে আবেদন খারিজ করে যে একই অভিযোগকারীর করা অন্য তিনটি বিশেষ মামলায় চার্জশিট পেশ হলেও এই মামলায় “নিল” চার্জশিট দাখিল হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ, যেখানে ইলেকট্রনিক স্ক্রিনশট এবং লিঙ্ক রয়েছে এবং জবানবন্দি নেওয়াট হয়েছে, সেখানে ফেসবুক থেকে তথ্য না পাওয়ায় পুলিশ মামলা গুটিয়ে নিতে পারে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এসসি/এসটি আইনের ৩(১)(আর)/(এস) ধারায় ডিজিটাল মাধ্যমেও জাতিগত অপমানের অভিযোগে মান্যতা দেওয়া হয়।
কী বলেছে হাইকোর্ট
হাইকোর্ট বিশেষ আদালতের এই যুক্তি গ্রহণ করেনি। আদালত বলে, প্রতিটি পৃথক ফৌজদারি নিজস্ব তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার করতে হয়। ডিজিটাল মাধ্যমে এভাবে জাতিগত অপমানের অভিযোগকে গুরুত্বহীন মনে করা যায় না।
এই বিচারপতি উদয় কুমার বলেন, মেটা বা ফেসবুকের কাছ থেকে সরাসরি তথ্য না পাওয়ার পর তদন্ত থেমে যাওয়া উচিত হয়নি। আইপি লগ ও অন্যান্য বিষয় খুঁজে দেখা দরকার ছিল। হাইকোর্ট জানায়, পর্যাপ্ত ডিজিটাল উপাদান থাকা সত্ত্বেও হাইকোর্ট সাইবার সেলকে দিয়ে তদন্ত না করানোয় বিভ্রাট তৈরি হয়েছে।
বিচারপতি উদয় কুমার ২০২৩ সালের ২৭ জুনের নির্দেশ বাতিল করে দিয়েছে। অপরাধমূলক পোস্টগুলির ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ও প্রোফাইল লগ শনাক্ত করার জন্য সাইবার-ফরেনসিক কর্মী নিয়োগের এবং আদালতের এই রায় পৌঁছনোর তিন মাসের মধ্যে সিআরপিসির ১৭৩(৮) ধারায় রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
