Calcutta High Court: ‘আপনি ডিভিশন বেঞ্চের থেকেও বড় হয়ে গেলেন?’ বাইপাসে অবৈধ নির্মাণ মামলায় প্রতি পদে পদে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের
Calcutta High Court Illegal Construction Case: রাস্তার ধারে বেআইনি পার্কিং প্লেস ও বিয়েবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ তুলে ২০২২ সালে জনস্বার্থ মামলা করেন জনৈক অর্ধেন্দু নাগ। তাঁর অভিযোগ, নয়নজুলি বুজিয়ে বেআইনি নির্মাণ করা হয়েছে। সব সরিয়ে খালমুক্ত করার আবেদন জানানো হয়। ২০২২ সালে জেলাশাসক স্বীকার করে নেন, জবরদখল হয়েছে। সেইসময় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, জবরদখলের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার রিপোর্ট দিতে হবে। এরপর জেলাশাসক বদল হয়েছে একাধিকবার। কিন্তু রিপোর্ট জমা হয়নি।

কলকাতা: হাইকোর্টে ‘দায়সারা’ রিপোর্ট জমা। বেআইনি নির্মাণ ও জবরদখল নিয়ে একটি মামলায় উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসককে ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাইকোর্ট। জেলাশাসককেই আদালতে হাজির হয়ে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিল ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ। জেলাশাসককে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর মন্তব্য, “আমাদের মনে হচ্ছে, ইচ্ছে করেই নির্দেশ অমান্য করছেন। তাই সশরীরে আসতে হবে হলফনামা ও রিপোর্ট নিয়ে।”
VIP থেকে উল্টোডাঙা পর্যন্ত বেআইনি নির্মাণ ও জবরদখলের বিরুদ্ধে একটি মামলার শুনানিতে শুক্রবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, “জেলাশাসককে আসতে বলুন। উনি কি নিজেকে ডিভিশন বেঞ্চের চেয়েও বড় মনে করেন? গ্রুপ ডি স্টাফ ফাইল করছেন রিপোর্ট?” মামলাকারীর আইনজীবী রবীন্দ্র নারায়ণ দত্ত তখন বলেন, “কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার রিপোর্ট তিনবার চাওয়া হয়েছে। তাও স্পষ্ট আকারে রিপোর্ট দেননি। আদালত শেষ নির্দেশে সতর্ক করে জানায়, এবার রিপোর্ট ঠিকভাবে না দিলে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হবে। তারপরও সেই নির্দেশ মানছেন না।”
তারপরই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী বলেন, “আমাদের মনে হচ্ছে, ইচ্ছে করেই নির্দেশ অমান্য করছেন। তাই সশরীরে আসতে হবে হলফনামা ও রিপোর্ট নিয়ে।” ডিভিশন বেঞ্চের অন্য বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় বলেন, “প্রধান বিচারপতিকে অসম্মান করছেন। আপনি এত ব্যস্ত?” উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের উদ্দেশে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না।” আগামী ২৩ জুলাই সকাল সাড়ে দশটায় উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়াকে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দিল ডিভিশন বেঞ্চ।
৪ বছর আগে জনস্বার্থ মামলা?
রাস্তার ধারে বেআইনি পার্কিং প্লেস ও বিয়েবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ তুলে ২০২২ সালে জনস্বার্থ মামলা করেন জনৈক অর্ধেন্দু নাগ। তাঁর অভিযোগ, নয়নজুলি বুজিয়ে বেআইনি নির্মাণ করা হয়েছে। সব সরিয়ে খালমুক্ত করার আবেদন জানানো হয়। ২০২২ সালে জেলাশাসক স্বীকার করে নেন, জবরদখল হয়েছে। সেইসময় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, জবরদখলের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার রিপোর্ট দিতে হবে। এরপর জেলাশাসক বদল হয়েছে একাধিকবার। কিন্তু রিপোর্ট জমা হয়নি। এবছর তিনবার রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ১৫ জুন বিরক্ত বেঞ্চ জানায়, রিপোর্ট না দিলে জেলাশাসককে ডেকে পাঠাবে আদালত। তারপরও রিপোর্ট আসেনি। এদিন যে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার উল্লেখ নেই। তা দেখেই ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট জেলাশাসককে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দিল।
