
কলকাতা: বাংলায় বিধানসভা ভোটের আর একশো দিনও বাকি নেই। কিন্তু, নির্বাচনে কার ‘হাত’ ধরা হবে, তা নিয়ে এখনও দোটানায় বামফ্রন্ট। আর এই আবহে বৃহস্পতিবার জোটসঙ্গী নিয়ে কার্যত চাপানউতোর দেখা গেল বামফ্রন্টের বৈঠকে। বৈঠকে কংগ্রেস ও আইএসএফকে ‘রাহু’ বলে আক্রমণ করল এক বাম শরিক। হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বৈঠক ঘিরেও উঠল প্রশ্ন। কংগ্রেস জোট ছাড়ায় বামফ্রন্টের অন্দরে দায় ঠেলাঠেলিও দেখা গেল।
আইএসএফের সঙ্গে জোটেও রাজি নয় বামফ্রন্টের একাংশ। তাদের বক্তব্য, নির্বাচনে শুধু বামফ্রন্ট-ই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক। না হলে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু, আইএসএফের সঙ্গে জোটে আগ্রহী বামফ্রন্টের বড় শরিক সিপিএম। তা নিয়ে বিতণ্ডা বাধে। সেইসময় ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায়কে তড়িঘড়ি আলিমুদ্দিন ছেড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। কংগ্রেস ও আইএসএফকে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “আমরা বলছি, বামফ্রন্টগতভাবে লড়াই চাই। মানুষ বামফ্রন্টকে বিশ্বাস করে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বামফ্রন্টকে ৩৬ বছর ক্ষমতায় রেখেছে। মানুষের প্রত্যাশা নেই বামফ্রন্টের কাছে? আমাদের মত পরিষ্কার, আমাদের কথা পরিষ্কার।”
২০১৬ ও ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল কংগ্রেস। এবার কংগ্রেস কী করবে, তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। অবশেষে কংগ্রেস জানিয়ে দিয়েছে, ২৯৪টি আসনে তারা একাই লড়াই করবে। কংগ্রেস কেন বামফ্রন্টের হাত ছাড়ল, তা নিয়ে চাপানউতোর বাড়ে বৈঠকে।
কয়েকদিন আগে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তা নিয়েও বৈঠক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখন পাল্টা যুক্তি দেন সেলিম। বামফ্রন্টের বৈঠকে টেনে আনা হয় প্রয়াত এক ফরওয়ার্ড ব্লক নেতার সঙ্গে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দেখা করার প্রসঙ্গ। সবমিলিয়ে জোটের জট এখনও কাটল না বামফ্রন্টের।