AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

SIR: রাজ্যের ডোমিসাইল সার্টিফিকেট মান্যতার দাবি, ফের CECকে চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী

SIR In WB: কাজের সন্ধানে ভিন রাজ্যে চলে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদেরও শুনানিতে সশরীরে হাজির হতে বাধ্য করা হচ্ছে, যদিও জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী তাঁরা ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্য। অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক চরম অসুবিধা ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন।

SIR:  রাজ্যের ডোমিসাইল সার্টিফিকেট মান্যতার দাবি, ফের CECকে চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী
জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরImage Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Jan 04, 2026 | 6:27 PM
Share

কলকাতা: ডোমিসাইল শংসাপত্র বাতিলের অভিযোগ, হয়রানির শিকার পরিযায়ী শ্রমিকরা। সূত্রের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দ্বারা ইস্যু করা স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র বা ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ভোটার পরিচয়ের প্রমাণ হিসাবে গ্রহণ না করার নির্দেশ অনানুষ্ঠানিকভাবে সমস্ত জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের জানানো হয়েছে। তবে এই সংক্রান্ত কোনও লিখিত বিজ্ঞপ্তি বা আইনসম্মত নির্দেশ এখনও জারি করা হয়নি। এই মর্মে ফের CEC জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের বিরুদ্ধে অপরিকল্পিত, ত্রুটিপূর্ণ এসআইআর করার অভিযোগ। রাজ্যের দাবি না মানলে এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে গত নভেম্বর মাসে জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখেছিলেন মুখ্য়মন্ত্রী। এসআইআর-এর প্রথম পর্বে চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর বা বাংলা সহায়ক কেন্দ্রের কর্মীদের ব্যবহার করা যাবে না বলে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

চিঠির বিষয়: ডোমিসাইল সার্টিফিকেট

প্রসঙ্গত,  কাজের সন্ধানে ভিন রাজ্যে চলে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদেরও শুনানিতে সশরীরে হাজির হতে বাধ্য করা হচ্ছে, যদিও জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী তাঁরা ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্য। অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক চরম অসুবিধা ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন।

প্রসঙ্গত, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ডোমিসাইল বা নিবাসী শংসাপত্র গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তার জেরে কলকাতা পুরসভায় আবেদনকারীর সংখ্যাও বাড়ে হু হু করে। পুরসভার সদর দফতরের পাশাপাশি বিভিন্ন বরো অফিসেও এই শংসাপত্রের জন্য নাগরিকদের ভিড় লক্ষ্যণীয়। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সঠিক দিশা দেখাতে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দফতরের তরফে কলকাতার সমস্ত কাউন্সিলরের কাছে একটি বিস্তারিত নির্দেশিকাও পাঠানো হয়। কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৮০টি করে নিবাসী শংসাপত্র পেতে আবেদন জমা পড়ছিল।

কিছুদিন আগেই পূর্ব বর্ধমানের কালনায় একটি অভিযোগ ওঠে। কালনা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ২৩৭ নম্বর পাটের ৩২ জন হিয়ারিংয়ের ডাক পান। কালনা মহকুমা শাসকের দফতরে তাঁদের হিয়ারিং। কিন্তু হিয়ারিংয়ের জন্য থাকা ১৩ টি নথির মধ্যে তাঁদের কাছে রয়েছে বাড়ির পুরনো দলিল। কিন্তু হিয়ারিংয়ের সেই সমস্ত ডকুমেন্টস কোন ভাবেই মান্যতা দেয়া হচ্ছিল না। তাঁদের কাছে আবার ডোমিসাইল সার্টিফিকেট চাওয়া হয়। এর মধ্যে অভিযোগ উঠছে, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট এখন বাতিল করা হচ্ছে।

‘প্রবীণ-অক্ষমদের হাজিরা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে’

এর ছাড়াও চিঠিতে বেশ কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, শুনানির জন্য ভোটারদের ডাকা হলেও কারণ জানানো হচ্ছে না। প্রবীণ, অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষম নাগরিকদেরও ২০–২৫ কিলোমিটার দূরে কেন্দ্রীভূত শুনানিতে হাজির হতে বাধ্য করা হচ্ছে।

‘বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের সশরীরে হাজিরার নির্দেশ’

ভিন রাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের পর্যন্ত ব্যক্তিগতভাবে হাজিরা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। মমতার অভিযোগ, বানান বা বয়স সংক্রান্ত সামান্য ত্রুটির জন্যও নতুন করে নথি যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা সময়সীমার মধ্যে শেষ হওয়া কার্যত অসম্ভব।

মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ

মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তিনি লিখেছেন, রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত আধিকারিক তালিকা উপেক্ষা করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে। অভিজ্ঞতাহীন কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের মাইক্রো অবজারভার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে, যারা তাদের নির্ধারিত ক্ষমতার বাইরে গিয়ে কাজ করছেন।  অবিলম্বে এই ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়া সংশোধন না হলে সম্পূর্ণভাবে তা স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।