Mamata Banerjee: ‘বিহারে গ্রাহ্য ফ্যামিলি রেজিস্টার, বাংলায় কেন নয়?’, প্রশ্ন তুললেন মমতা

CM Mamata Banerjee: নির্বাচন কমিশনকে ফের একবার তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপিকে। নির্বাচন কমিশনকে তুঘলক বলে আক্রমণ মমতার। তাঁর প্রশ্ন, "বিহারে যে নথি গ্রাহ্য তা কেন বাংলায় অগ্রাহ্য?" সাংবাদিক বৈঠক থেকে মমতা আর কী কী বললেন?

Mamata Banerjee: বিহারে গ্রাহ্য ফ্যামিলি রেজিস্টার, বাংলায় কেন নয়?, প্রশ্ন তুললেন মমতা
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়Image Credit source: Social Media

| Edited By: অবন্তিকা প্রামাণিক

Feb 17, 2026 | 4:58 PM

কলকাতা: নবান্ন থেকে বৈঠকে বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নির্বাচন কমিশনকে ফের একবার তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপিকে। নির্বাচন কমিশনকে তুঘলক বলে আক্রমণ মমতার। তাঁর প্রশ্ন, “বিহারে যে নথি গ্রাহ্য তা কেন বাংলায় অগ্রাহ্য?” সাংবাদিক বৈঠক থেকে মমতা আর কী কী বললেন? একনজরে….

সর্বশেষ তথ্য উপরে

  1. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আমরা ক্যাবিনেটে পাস করেছি যে WBCS অফিসার যাঁরা আছেন, দুবছর প্রভিশনে থাকবে, তিনবছর বিডিও-র পর সে এসডিও হবে।
  2. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: ওদের সাইকোলজিক্যাল সমস্যা আছে আমার মনে হয়। বিজেপি পার্টির অনেককে বলব গিয়ে মাথার চিকিৎসা করান। ব্রেনকে ড্রেন করবেন না।
  3. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: উত্তরবঙ্গকে ভাগ করতে পাঠিয়েছিলেন তো। ভাবেন কী আমরা খোঁঝ রাখি না? আমরা পেগাসাস করি না। এখন থেকে কত বাইক কিনে এনেছে। বেটি বাঁচাওয়ের টাকা কোথায় গেল? অত্যাচার বাড়তে বাড়তে সব সীমা লঙ্ঘণ করেছে। জঙ্গিভাবাপন্ন মানসিকতা সাধারণ মানুষের উপর করছেন। সোজা আঙুলে ঘি না ওঠে, ব্যাকা আঙুলে ঘি তুলতে হবে। আয়ু তো একবছর দু বছর। ভাল কাজ করলে মিষ্টি খাওয়াব।
  4. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আমি এই দেশকে ভালবাসি। মণিপুর আজও জ্বলছে। এখানে কজন বাংলাদেশি খুঁজে পেলেন? বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমিও বলে দেব, কাকে কাকে আপনারা আশ্রয় দিয়েছেন। ভদ্রভাবে কাজ করুন। সৌজন্যতা মেনে চলুন। আমরা ইচ্ছা করলে ঘেরাও করে রাখতে পারি সব কটাকে। বিএলও-ইআরও সকলে প্রত্যেকে কাজ করছেন। কারা কাজ করছে না?
  5. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: ধনখড়জির সঙ্গে আমাদের ঝগড়াঝাটি ছিল। শেষে ভাব হয়। কিন্তু ওঁকে তো উপরাষ্ট্রপতি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কী হল শেষে? শুনেছি ওয়েস্টার্ন কোর্টে তাঁকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল তিন মাস ধরে। মানুষ জানতে পারবে না? পহেলগাঁও, পুলওয়ামায় কী হয়েছে কেউ জানতে পারবে না? বাংলায় পটাকা ফাটলেও এনআইএ পাঠিয়ে দেয়। একজন আবার জাতীয় মহিলা কমিশন থেকে লোক চলে আছে। উন্নাও য়ে হলে চোখে কালো কাপড় দিয়ে আটকে রাখে। ভাগ্য় ভাল আমরা মুখ খুলিনি। মুখ খুললে বুঝবে।
  6. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: বাজারে মাছ-মাংস বিক্রি হবে না। যে বিজেপির জন্য এত লড়াই করছেন, এখানে এলে তো মাছ-মাংস বন্ধ করে দেবেন। সবাই কি শপিং মলে মাছ-মাংস বেচবে?আমাদের তো চাষিরা রাস্তায় বসে। পুকুরের টাটকা ফল বেচে। স্কন্ধ কাটার রাজনীতি চলছে। এই রাজনীতিকে ধিক্কার জানাই।
  7. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আপনাদের ইতিহাস / ভূগোল/ পলিটিক্যাল সায়েন্স থেকে সবকিছু আছে। অনেক কীর্তি কেলেঙ্কারির নায়ক-নায়িকাদের বলব জণগনের উপর নেবেন না । আপনাদের প্রতিশোধ আমার উপর নিন। জনগণের উপর নয়। আপনারা কেউ ৪২০ ভোল্ট হন। আমি ৪৪০ ভোল্ট।
  8. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: বাংলাদেশে কিছুদিন আগে ভোট হল। কত শান্তিপূর্ণ ভাবে হল। সবাই বলল হয়ত কত গণ্ডগোল হবে। আর দেখুন ভারতে… গণতন্ত্রকে খতম করার চক্রান্ত। রাজতন্ত্রেও এমন হয়নি। সুপার হিটলার হয়ে আছে। আরেকজন ভদ্রলোক বাবু বসে টি বোর্ডে বসে অধিকার হরণ করছেন। কয়েকটা গুপ্ত শত্রু আছে। উনি পরিকল্পনা করছে কী করে বাংলার মানুষের নাম বাদ দেওয়া যায়।
  9. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়:আমি কমিশনের সকলকে বলছি না। আমি মহম্মদ বিন তুঘলককে বলছি না। আমি জেলে যেতে প্রস্তুত। ওর মেরে ফেলুক। কিন্তু আমি সারেন্ডার করব না। আমি উৎসর্গ করব মানুষের জন্য। কিন্তু আমি ওদের বিরুদ্ধে লড়াই করব।
  10. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: যারা ERO/ DM/ police কে ভয় দেখাচ্ছেন , আমি বলব সকলে আইন মেনে চলবে। ভোট ঘোষণা হওয়ার পরে নির্বাচন বিধি শুরু হয়। জনগণের টাকা খরচ করে প্রচার করছেন। আবার তাঁদেরই গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছেন? এটা রাবণের সীতা হরণের মতো। দেশটাকে মগের মুলুক ভেবেছে।
  11. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: এখনও মাইনরিটি-তপশিলী-গরীব মানুষ খুঁজে বেড়াচ্ছে, গরিব লোক খুঁজছে। সব ধর্মের লোক আছে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে মেয়েদের অধিকার কাড়ছে। ইয়ং জেনারেশনকে সুযোগই দিলেন না। ২৪ বছর সময় পেলেন হাতে। কেন আগে থেকে এসআইআর শুরু করলেন না? পুজো, বড়দিনের সময় এই সব করলেন। তুঘলকি কমিশন দিল্লির জমিদারের কথায়…ভাবছেন ওই চেয়ারটা পারমানেন্ট। ডোন্ট কেয়ার মনোভাব দেখিয়ে গেছে। একজন বিএলও মৃত্যুর আগে সুইসাইড নোট লিখে গেছে। ইআরও-র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে কমিশন বিরুদ্ধে নয় কেন? ডিএম দের বলছে চাকরি থাকবে না। আপনাদের চাকরি থাকবে তো ?
  12. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: তৃণমূল কংগ্রেস সংবিধান মেনে চলে। ছাব্বিশের পর তো কেন্দ্রে এই সরকারও থাকবে না। এখন থেকে বলছি খোঁজ রাখুন। অনেক ঘটনা ঘটে গিয়েছে, আমরা মুখ খুলিনি। ভদ্রতা করেছি। পার্লামেন্ট চালাতে দিয়েছি। তৃণমূল গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। কিন্তু কেউ যদি মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে চায়। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নির্বাচনের আগেই শেষ করতে চায়। আমায আঘাত করলে/ আমি প্রত্যাঘাত করব। আমি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড প্রচার করব। যদিও আমি নিজের দেশকে ভালবাসি।
  13. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: থ্রেটনিং কালচার। আমরা আইন নিশ্চয়ই মানব। যেটুকু কমিশনের আইন / তুঘলকি কমিশনের নিশ্চই মানব। কিন্তু বাউন্ডারির বাইরে গেলে ছক্কা খেতে হবে জনগণের। জানেন এখনও পর্যন্ত কত নাম উঠেছে?
  14. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: সাত এইআরও কে সাসপেন্ড করে দিলেন। কারণ কী? তাঁদের কাছে অপরাধ একবারও জানতে চেয়েছেন? এই তুঘলকি কমিশন কতগুলো হোয়াটস অ্যাপ দিয়েছে? ব্রেকফাস্ট-লাঞ্চ-ডিনারে খালি হোয়াটস অ্যাপ। পুরোটাই বেআইনি। অনেকগুলো কমিশন দেখেছি। এরকম তুঘলকি কমিশন দেখিনি।
  15. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: তুঘলকি কমিশনের একজন বিজেপি কন‍্যা এআই করে ভোটার বাতিল করে দিলেন ৫৮ লক্ষ ভোটারকে। অনেক আসল ভোটারআছে। দু’নম্বরি চলছে। কোন ভোটার অ্যাকসেপটেট হয়ে জানা গেল না। জোচ্চুরি করার কাজ চলছে। ১৪ তারিখে কেউ মারা গেলে ১৬ তারিখে এসে চিকিৎসক কী দেখবে ? জ্যান্ত মানুষ না চীতা? ওরা সুপ্রিম কোর্টের অর্ডারও মানেনি।
  16. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: বিহারে যদি অ্যালাও হয়, তাহলে এখানেও বললেন হিয়ারিং হবে। তাহলে ১৪ তারিখও শুনানি হওয়ার কথা ছিল। ওই দিন তিনটে নাগাদা কেন ব্লক করে দিলেন? লক্ষ মানুষের নাম আটকে গেল।
  17. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: টর্চার কমিশন। যাঁরা তুঘলকি কাণ্ড করছেন, হিটলারি অত্যাচার চালাচ্ছেন। তাঁদের কাছে প্রশ্ন, ভোট দিয়ে জনগণ সরকার নির্বাচন করেন? নাকি তুঘলকি কমিশন পার্টির হয়ে ভোটটা করে দেন। হরিয়ানা নিয়ে অভিযোগ ছিল। এটা সত্য। বিহার-মহারাষ্ট্রে ছিল। আমার কথা বিহারে যে ডকুমেন্টস অ্যালাও হল, সেটি কেন এখানে হবে না। কেন বাংলা টার্গেট? বিহারে কী কী অ্যালাও করা হয়েছিল? বিহারে কী কী অ্যালাও করা হয়েছিল? ১১ টা ছিল। আমাদের এখানে ১৩ টা করেছে। একটা দুটো। এই তেরোটার মধ্যে বলছি। আমি সব কটা বলছি না। কিছু কিছু বলছি। ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস সব ছিল।