
কলকাতা: বৃহস্পতিবার, ভোর তখন ছ’টা। আইপ্যাকের কর্ণধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে চলছিল তল্লাশি। অপরদিকে, সল্টলেকেও আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চলছে ইডির। সেই সময় পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডির অভিযোগ, তদন্তে বাধা দিয়েছেন তিনি। অপরদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, কেন্দ্রীয় এজেন্সি তৃণমূলের যাবতীয় তথ্য চুরি করছিল। এবার এই নিয়েই আজ ফের মুখ খুললেন মমতা। গতকাল কীভাবে খবর পেয়েছিলেন তিনি, ঠিক কী কী হয়েছিল সবটা জানালেন নিজের মুখে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তিনি কিছুই জানতে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে একটি মেসেজ পাঠালেও তিনি সেটা দেখেননি। পরে টিভিতে দেখেন যে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে ইডি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন হয়ত কথা বলতে এসেছেন গোয়েন্দারা। মমতা বলেন, “আমি কিছুই জানতাম না। সকালে খবর পাই কিছু একটা হচ্ছে। আমি আর জানবার চেষ্টা করিনি। মাথায় মারার পর থেকে ভোর চারটের আগে ঘুমোতে পারি না। অভিষেক মেসেজ করেছিল। মিসড করে গিয়েছি।”
এরপর তিনি বলেন, “আমি খবর শুনেছিলাম। ভেবেছি কথা বলতে এসেছে। আমি প্রতীককে ফোন করি। তোলেনি। তখনই সন্দেহ হয়। ভাবলাম পার্টিরল সব নিয়ে পালাচ্ছে না তো।” মমতার সংযোজন, “মানুষকে ভালবাসি যেমন, জোড়া ফুলে তো দাঁড়াই। পার্টি রক্ষা না হলে মানুষের জন্য লড়ব কীভাবে? অসহায় মানুষ বিপদে পড়লে আমায় জানায়। মোদী যখন ১৪তে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন সেই সময় আইপ্যাক কাজ করেছে ওদের হয়ে। তখন প্রশান্ত কিশোর ছিল। এখন প্রশান্ত নেই। প্রতীক দেখে। আমাদের একটাই আইটি সেল দেখে ওরা। আমাদের একটাই সবে ধন নীল মণি। রণডঙ্গা বাজিয়ে আসছে।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “আমি তৃণমূলের চেয়ারম্যান হয়ে করেছি। কোনও অন্যায় করিনি। তুমি চোরের মতো কেন এসেছ? তুমি সব ডেটা আমার চুরি করছিল। তোমরা তো ছটা থেকে করছ। আমি সারে এগারোটায় গেছি। পাঁচ ঘণ্টা সব চুরি করেছ।”