Suvendu Adhikari: ‘আমি জঞ্জাল সাফাই করতে জানি’, যাদবপুর থেকে কোন জঞ্জাল সাফাইয়ের হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?
Suvendu Adhikari on Jadavpur University: দেশবিরোধী স্লোগান বরদাস্ত হবে না জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, "আমি অসুখও জানি, ওষুধও জানি। আমাদের বিদ্যার্থী পরিষদ দিল্লির জেএনইউ, হায়দরাবাদের ওসমানিয়া, সবাইকে শুধরে দিয়েছে। যাদবপুর এখনও বাকি। এটাও হয়ে যাবে। এত সাহস, আর্টস হস্টেলের দেওয়ালে রেড স্যালুট কিষেণজি।"

কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আজাদি স্লোগান নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার যাদবপুরে ১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম গাওয়া হয়। সেখানেই মঞ্চ থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে একাধিক ‘কীর্তিকলাপ’ নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, “আমি ওই পুলিশমন্ত্রী, আমি জঞ্জাল সাফাই করতে জানি।”
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?
এদিন যাদবপুর থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মিছিলের স্লোগান কী, আজাদি। কীসের আজাদি? ক্ষুদিরাম বসুরাই তো আজাদি দিয়ে গিয়েছেন। আপনারা কীসের আজাদি চান? হেরোইন খাওয়ার আজাদি? গাঁজা খাওয়ার আজাদি? ড্রাগ নেওয়ার আজাদি? টুকরে টুকরে গ্যাং। অবন্তীপুরায় যখন ৪৫ জন সিআরপিএফ-কে উড়িয়ে দেয় পাকিস্তানি জঙ্গিরা, এই বেয়াদপগুলোকে সেদিন মিছিল করতে দেখা যায় না। শোক প্রকাশ করতে দেখা যায় না। হিসেবের শেষ পর্যায়ে এসে গিয়েছে। নয় এরা থাকবে, নয় আমরা থাকব। মাঝখানে আর কিছু হবে না।”
হস্টেলের পড়ুয়াদের ভয় দেখানো হয় বলে মন্তব্য করে মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, “হস্টেলে থাকা ছাত্রছাত্রীদের থ্রেট কালচারের মধ্যে রাখা হয়। জোর করে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের ধমক দেওয়া হয়। ৯০ ভাগ রাষ্ট্রবাদী পরিবারের ছেলেমেয়েরা এখানে পড়াশোনা করে। তারাই আমাদের বলে, জোর করে হস্টেল ফাঁকা করে মিছিলে নিয়ে যায় তথাকথিত চে গুয়েভারা নাকি কীসব নাম যেন গেঞ্জিতে লেখা। এবং না গেলে বলে, রানাঘাটের ওই দরিদ্র পরিবারের ছাত্রটার যা পরিণতি করেছি, তোদেরও তাই পরিণতি হবে।”
‘যাদবপুর নাকি লেনিননগর’, কটাক্ষ শুভেন্দুর-
যাদবপুর নিয়ে বামেদের কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, “এই সরকার শক্তিশালী সরকার। রাষ্ট্রবাদ দেশপ্রেমের জনজাগরণ ঘটিয়ে যাদবপুর, টালিগঞ্জ, সোনারপুর আপনারাই পরিষ্কার করে দিয়েছেন। অনেকেই বলত, যাদবপুর নাকি লেনিননগর। এখানে নাকি বিজেপি জিততে পারবে না। কমিউনিস্টরাই জিতবে। এখন যাদবপুরে যারা ধর্মরক্ষার জন্য উদ্বাস্তু হয়ে এসেছিলেন, তাঁরাও এবার বোন শর্বরীকে জিতিয়ে পাঠিয়েছেন আমাদের কাছে। ভালো থাকবেন আপনারা। সরকার ভাবছে। আপনারাও ভাবুন। এই দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই হবে।”
‘যাদবপুর এখনও বাকি, এটাও হয়ে যাবে’-
দেশবিরোধী স্লোগান বরদাস্ত হবে না জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, “আমি অসুখও জানি, ওষুধও জানি। আমাদের বিদ্যার্থী পরিষদ দিল্লির জেএনইউ, হায়দরাবাদের ওসমানিয়া, সবাইকে শুধরে দিয়েছে। যাদবপুর এখনও বাকি। এটাও হয়ে যাবে। এত সাহস, আর্টস হস্টেলের দেওয়ালে রেড স্যালুট কিষেণজি। কে এই কিষেণজি? যিনি গোমতী থেকে গোদাবরী, আলাদা রাষ্ট্র তৈরির কথা বলতেন, সেই কিষেণজিকে রেড স্যালুট দেবেন। আর ফ্রি প্যালেস্টাইন? ওই জায়গায় আগে লিখুন, ফ্রি ফ্রি পাক অকুপাইড কাশ্মীর। উচ্চশিক্ষা দফতর দেখছে। আমিও দেখছি। জুটার নেতাবাবুরা কতক্ষণ এদের বাঁচায়, আমিও দেখব।”
একইসঙ্গে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “প্রাক্তন ছাত্র হওয়ার পরে কী করে হস্টেলে থাকেন, এটাও আমি দেখব। ড্রোন ওড়াব। গাঁজা, হেরোইন কোথায় কোথায় কে নিয়ে যাচ্ছে, আর কোথায় কোথায় বসে পাতা পুড়িয়ে টানছেন, আমি বের করব। আমি ওই পুলিশমন্ত্রী, আমি জঞ্জাল সাফাই করতে জানি। আমি জঙ্গলমহলে কিষেণজিদের খাতা বন্ধ করেছি।”
