Suvendu Adhikari: সুদীপের বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোয় শুভেন্দু, খেলেন নাড়ু, বেরিয়ে যা বললেন…
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে আসার পিছনে কি কোনও রাজনীতি রয়েছে? সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আপনাদের যা খোঁজার আপনারা খুঁজতে পারেন। কিন্তু, আমি কিছু গন্ধ পাচ্ছি না। আমি খুব ভালো জুঁইফুলের গন্ধ পাচ্ছি।"

কলকাতা: লক্ষ্মীপুজোয় NCPI সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রী অর্জুন সিং। কলকাতা উত্তরের সাংসদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিলেন, সুদীপের বাড়িতে আসার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। এটা পুরোপুরি সৌজন্য। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এখন NDA-র সঙ্গে রয়েছেন বলেও স্মরণ করিয়ে দিলেন। একইসঙ্গে সুদীপের বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোয় একবারও না আসায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কটাক্ষ করলেন তিনি।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?
সুদীপের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে প্রত্যেকবার ডাকতেন। কোনওবার আসিনি। এটা সম্পূর্ণ সৌজন্য বিনিময়। তিনি রাজ্যের একজন প্রবীণ নেতা। আমার বাবার সমসাময়িক। আমাকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে একমাস আগে ডেকেছেন। গতকাল একটা মেসেজ করেছেন।” তার পরই তিনি বলেন, “মিষ্টি এনেছিলাম। তুলসী দিয়ে মাকে দিলাম। মা গ্রহণ করলেন। আর আমাকে বৌদি নারকেলের নাড়ু খাওয়াল। চারটে নাড়ু দিয়েছিল। দুটো খেয়েছি।”
সুদীপের বাড়িতে তাঁর আসা ঘিরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা আঘাত পাবেন কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। মুখ্যমন্ত্রী এই নিয়ে নিজেই জানালেন, “যে দল, যে কর্মী-জনগণ আমাকে মুখ্যমন্ত্রী করেছেন, আমার অন্তত জানা নেই, কোনও বিজেপি ভোটার বা কর্মীকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা অত্যাচারিত হতে হয়েছে। তাই আমার ক্ষেত্রে অন্য কোনও সমস্যাও নেই। তাছাড়া উনি এখন দেশের স্বার্থে, রাষ্ট্রের স্বার্থে এনডিএ-র সঙ্গে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে বাড়িতে ডেকে ব্রেকফাস্ট করেছেন। প্রধানমন্ত্রী যাঁকে ডেকে ব্রেকফাস্ট করতে পারেন, তাঁর বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোর আমন্ত্রণ রক্ষা করার সঙ্গে আমার মনে হয় না কোনও গরমিল রয়েছে।”
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে আসার পিছনে কি কোনও রাজনীতি রয়েছে? সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের যা খোঁজার আপনারা খুঁজতে পারেন। কিন্তু, আমি কিছু গন্ধ পাচ্ছি না। আমি খুব ভালো জুঁইফুলের গন্ধ পাচ্ছি।” এরপরই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “তাঁকে প্রত্যেকবার ডাকতেন। ২ কিমি দূরে থাকেন। কিন্তু, কোনওবার আসেননি।”
কী বলছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়?
সামনেই কলকাতা পৌরনিগমের ভোট। সেখানে কি NCPI-র সঙ্গে বিজেপির জোট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কোনও সঙ্গে কথা হয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তরে সুদীপ বলেন, “আমি তো বললাম, তিন মাস আগে নবান্নতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। তখন উনি বলেছিলেন, আপনাদের কয়েকজনকে আমরা প্রার্থী করার কথা ভেবে দেখছি। আমি বলেছিলাম, পরে বসব। এখানেই ইতি। তারপর আর আলোচনার অগ্রগতি হয়নি।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সুদীপ আগে লক্ষ্মীপুজোয় আগে আমন্ত্রণ জানাতেন। তিনি কখনও আসেননি। এই বিষয়টিতে কি তাঁর খারাপ লাগে? এই প্রশ্নের কলকাতা উত্তরের সাংসদ বলেন, “খারাপ আমার লাগে না। কারণ, উনি আমার বাড়িতে, নয়নার বাড়িতে রাত্রি কাটিয়েছেন। আমরা একসঙ্গে দু’জন মিলে রাজ্যজুড়ে তৃণমূল করেছি। কেউ ছিল না। তৃণমূলের প্রথম ৭ জন সাংসদের মধ্যে আমি একজন। ১৪ বছর তৃণমূলের সংসদীয় দলের নেতা ছিলাম। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সংস্পর্শ, এ তো বড় ব্যাপার। এটা হঠাৎ করে ভুলব কী করে। তাই মমতার প্রতি দুর্বলতা, তাঁকে নেত্রী হিসেবে মানা, তার সঙ্গে তৃণমূলকে এই মুহূর্তে আমি যুক্ত রাখতে চাইছি না।”
