CPIM Leader Tanmoy Bhattacharya: সেক্টর ফাইভে বিজেপির পার্টি অফিসে হাজির বিতর্কিত সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য
CPIM Leader Meets BJP: নিজেই নিজের রাজনৈতিক সততা নিয়ে বলতে গিয়ে আদর্শের কথা বলেন তন্ময়। খানিক আক্ষেপের সুরেই বলেন, “আমি এর আগে বহুবার বলেছি আমাকে যে কেউ যে কোনও সমালোচনায় বিদ্ধ করুন। কিন্তু দুটো কথা আমার পিঠে বসাবেন না। একটা অসৎ, আর একটা বিশ্বাসঘাতক। এই দুটো বসাতে গেলে নিজেরা নিজেদের কাছে ঠকবেন।”

কলকাতা: তাঁকে নিয়ে বারেবারেই দানা বেঁধেছে বিতর্ক। অস্বস্তি পড়েছে দল। এমনকী বারেবারেই তাঁর দলবদল নিয়ে জল্পনাও তীব্র হয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের আবহে তৃণমূলের ঝাঁকে ঝাঁকে হেভিওয়েটরা যখন বিজেপির দরজা খোলার অপেক্ষায় হাপিত্য়েশ করে বসে আছেন, তখন সল্টলেকে বিজেপির পার্টি অফিসে দেখা গেল এককালের দাপুটে সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্যকে। তাহলে তিনিও কী এবার শিবির বদলাচ্ছেন? বিজেপির পার্টি অফিসে তাঁর দেখা মিলতেই দিনভর চলল চাপানউতোর। যদিও দিনের শেষে নিজের মুখেই সবটা খারিজ করে দিলেন তন্ময়। সাফ বললেন, “আমার কাছ থেকে রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা আশা করবেন না।” তাহলে কেন গিয়েছিলেন বিজেপির কাছে?
কী বলছেন তন্ময়?
তন্ময় বলছেন, “আমাদের পার্টির একজন কেন্দ্রীয় স্তরের নেতা, রাজ্যের বামফ্রন্ট সরকার থাকার সময় একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়। আগের সরকার এটা করে। এখনও তিনি আবেদন করার পরেও সিকিউরিটি ফেরত পাননি। তাঁকে পুনরায় সিকিউরিটি দেওয়ার জন্য আমি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম।”
এরপরেই নিজেই নিজের রাজনৈতিক সততা নিয়ে বলতে গিয়ে আদর্শের কথা বলেন তন্ময়। খানিক আক্ষেপের সুরেই বলেন, “আমি এর আগে বহুবার বলেছি আমাকে যে কেউ যে কোনও সমালোচনায় বিদ্ধ করুন। কিন্তু দুটো কথা আমার পিঠে বসাবেন না। একটা অসৎ, আর একটা বিশ্বাসঘাতক। এই দুটো বসাতে গেলে নিজেরা নিজেদের কাছে ঠকবেন।” এরপরেই তাঁর সংযোজন, “আমার কাছ থেকে রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা আশা করবেন না। আমি রাজনীতি করি আদর্শের জন্য। আমি আমার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি, হব না। যতক্ষণ না এর থেকে উন্নত কোনও মতাদর্শ আসবে ততক্ষণ এই সম্ভাবনার কোনও সুযোগ নেই।”
অন্যদিকে রাজনৈতিক আদর্শ, পরিচিতি, বন্ধুত্ব যে আলাদা আলাদা বিষয়েও সেই বিষয়েও এদিন খানিক পাঠ দেন তন্ময়। বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “শমীক আবার গত ৩৫ বছরের বন্ধু। আমার মেয়ের বিয়েতে এসেছে, ছেলের বিয়েতে এসেছে। ৩৫ বছর ধরে সম্পূর্ণ বিরোধী দুই রাজনৈতিক মতাদর্শে থেকে এই বন্ধুত্ব যখন আমরা রক্ষা করতে পেরেছি তখন আমার বিশ্বাস বাকি জীবনটাও পারব। আমি এই কাজে গিয়েছিলাম। শমীককে পাইনি, দেবজিতকে পেয়েছি। বিশদে বলে এসেছি। ও বলেছে দেখবে।”
