
কলকাতা: দায়িত্ববৃদ্ধি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের। পুরনো আস্থার নজির তৈরি করলেন ‘বালু’। রেশন-কাণ্ডে নাম জড়িয়ে, কারাগারে বন্দি থেকে অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। পেয়েছেন জামিন। আর বাংলার নির্বাচন যখন দোরগোড়ায়, সেই সময় তৃণমূল সুপ্রিমোর হাত হয়ে পেয়েছেন বাড়তি দায়িত্ব।
ছাব্বিশের ভোটপ্রস্তুতিকে মাথায় রেখে শনিবার রাজ্যের তিন সাংগঠনিক জেলা — জঙ্গিপুর, বহরমপুর এবং বারাসতের জন্য নির্বাচনী কোর কমিটির ঘোষণা করল তৃণমূল। যার মধ্য়ে বারাসতের কোর কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন হাবড়ার বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। বলে রাখা প্রয়োজন, বারাসতের নির্বাচনী প্রস্তুতির দায়িত্বে থাকা এই কোর কমিটিতে মোট ১৬ জন সদস্য রয়েছেন। আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন রথীন ঘোষ। যুগ্ম আহ্বায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সদস্য হিসাবে নাম রয়েছে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুজিত বসুদেরও।
রেশন-কাণ্ডে জ্যোতিপ্রিয় কারাবাস হলেও সাংগঠনিক কাজে কোনও খামতি রাখেননি তিনি। বালুর অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব সামলেছেন অন্য নেতারা। তিনি জামিন পেতেই জেলাজুড়ে ঘুরে বেরিয়েছেন দলের প্রচারে। তাই সেই বারাসতে নির্বাচনী কোর কমিটি তৈরি হতেই দায়িত্ববৃদ্ধি হয়েছে জ্যোতিপ্রিয়র। অবশ্য একা বালু নন, রেশন দুর্নীতি নাম জড়ানো আনিসুর রহমানও রয়েছে বারাসতের এই কোর কমিটিতে।
শুধু বারাসত নয়, জঙ্গিপুর ও বহরমপুরেও তৈরি হয়েছে কোর কমিটি। মুর্শিদাবাদ ও সেই সংলগ্ন মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় তৃণমূলের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হুমায়ুন কবীর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই চ্যালেঞ্জকে মাথায় রেখেই এই দুই সাংগঠনিক জেলায় নির্বাচনী কোর কমিটি তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় শীর্ষ নেতৃত্ব।
জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলায় ১০ সদস্যের কোর কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোর কমিটির তালিকায় রয়েছেন ফরাক্কার বিধায়ক আমিরুল ইসলাম, জঙ্গিপুরের বিধায়ক জাকির হোসেন এবং সাগরদিঘির বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ মুখ। অন্যদিকে বহরমপুর সাংগঠনিক জেলায় গঠিত কোর কমিটিতে মোট সদস্য ১৬ জন। সেখানেও রয়েছেন আবু তাহের খান, রবিউল আলম চৌধুরী, গোলাম মুর্শেদের মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্য়ক্তিত্ব।