
কলকাতা: সিপিএমের (CPM) রাজ্য কমিটি থেকে পদত্যাগ প্রতীক-উর-রহমানের। প্রাথমিক সদস্যপদও ছেড়েছেন তিনি। দলকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন প্রাক্তন SFI-এর রাজ্য সভাপতি। রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ফলে তিনি সিপিএম থেকে পদত্যাগ করেছেন দলকে লিখিত জানিয়েছেন প্রতীক-উর। আর প্রতীক-উর রাজ্য কমিটি থেকে পদত্যাগ করতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। কিন্তু ভোটের মুখে কেন এই সিদ্ধান্ত? প্রশ্ন উঠতেই প্রতীক-উর বলেছেন, তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কারও বিরোধ নেই।
কেন এমন সিদ্ধান্ত প্রতীক-উরের?
সম্প্রতি, দল বিরোধী কাজ করায় তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তৈরি করেন নতুন দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’। নিজের দলের সঙ্গে জোট করে ভোটের ময়দানে লড়াই করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন হুমায়ুন। জোটের জন্য, তৃণমূল বাদে বাকি সব দলকেও আহ্বান জানান হুমায়ুন। আর্জি জানানো হয় সিপিএমকেও। সেই মতো মহম্মদ সেলিম নিউটাউনে বৈঠক করেন হুমায়ুনের সঙ্গে। তখনই দলের একাংশের সঙ্গে সেলিমের বিরোধ দেখা দেয়। তবে, তাঁর পাশে সেই সময় দাঁড়িতে দেখা যায় তরুণ তুর্কি শতরূপকে। সেই সময় তিনি কিছু মন্তব্য করেছিলেন। শতরূপ বলেছিলেন, “সিপিএম তো এখনও বলেনি, হুমায়ুনকে ভরসা করবে কি না। কিন্তু, সমস্ত নীতি নৈতিকতার ঠেকা কি আমরা একা নিয়ে বসে রয়েছি? বিজেপি তাকে প্রার্থী করলে দোষ নেই। তৃণমূল মন্ত্রী করলে দোষ নেই। সিপিএম তাঁর সঙ্গে কথা বললে অপরাধ হয়ে গেল।”
পার্টিকে লেখা প্রতীক উরের চিঠি
শতরূপের এই বক্তব্যের পরই দেখা যায় একটি ফেসবুকে পোস্ট করেন প্রতীক-উর। সেই সময় তিনি লিখেছিলেন, ‘নীতি নৈতিকতা ছাড়া, আর যাই হোক, কমিউনিস্ট পার্টি হয় না।‘ তবে, সেখানে শতরূপের নাম করে লেখেননি কিছুই। তবে লাল পার্টির অন্দরে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল, শতরূপকে কটাক্ষ করেই এই মন্তব্য ছিল তাঁর।
এরপর দেখা গেল গতকাল অর্থাৎ রবিবার (১৫.২.২০২৬) দলকে একটি চিঠি পাঠান প্রতীক-উর। সেখানে তিনি পরিষ্কার লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের বেশ কিছু ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে আমি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছি না। মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। সেই কারণেই যাবতীয় পদ থেকে অব্যাহতি চাইছি।’
তবে সিপিএম নেতা শতরূপ টিভি৯ বাংলাকে বলেন, “আমি কলকাতার বাইরে আছি। এটা সত্যি মিথ্যা ঠিক ভুল জানি না। প্রতীক-উর আমাদের পার্টির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক লিডার। অনেক দায়িত্ব নিয়ে লড়েছেন। আমি আশা করব সব মিটে যাবে। তবে এই বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।” অপরদিকে প্রতীক-উর বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমার সঙ্গে কারও বিরোধ নেই। আমার যা বলার আমি পার্টিকে বলেছি। সর্বোচ্চ নেতৃত্বের তরফে এখনও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। এটা তো দলের আভ্যন্তরীণ বিষয় এটা আমি সবার সামনে বলব না। সময় এলে মিডিয়াকে জানাব।”
আর প্রতীক-উরের এই চিঠির পরই আসরে নেমেছেন কুণাল ঘোষ। তিনি সিপিএমকে কটাক্ষ করে লিখেছেন, “সিপিএমের বায়োলজিকাল ফেরেব্বাজ নেতৃত্বের অংশ ও ফেসবুকের সভ্যতাহীন ফুটেজ বিপ্লবীদের দাপটে সিপিএমেরই প্রথম সারির যুবনেতাদের অবস্থা ও সিদ্ধান্ত এরকম।”