
কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার সদস্য তাঁরা। কেউ একুশের নির্বাচনে জিতেছেন। কেউ পরে উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। রাজ্যের মন্ত্রী হয়েও কয়েকজন ছাব্বিশের নির্বাচনে টিকিট পেলেন না। মঙ্গলবার তৃণমূল প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার পর দেখা যায়, ৫ জন বর্তমান মন্ত্রী এবার টিকিট পাননি। আর টিকিট দেওয়া হয়নি প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে।
বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায় যে এবার তৃণমূলের টিকিট পাবেন না, তা একপ্রকার নিশ্চিত ছিল। তবে একসময় তৃণমূলের মহাসচিব ছিলেন তিনি। শিক্ষা-সহ রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের সামলেছেন। ২০২১ সালে তৃণমূলের বিপুল জয়ের পরও মন্ত্রী হন তিনি। তবে ২০২২ সালের জুলাইয়ে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি তাঁকে গ্রেফতার করার পর তাঁর মন্ত্রিত্ব যায়। দল থেকেও সাসপেন্ড করা হয়। গত বছরের নভেম্বরে জামিনে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন তিনি। তবে তাঁর জেলমুক্তি নিয়ে তৃণমূলের তরফে কোনও বার্তা দেওয়া হয়নি। এরপর নিজে থেকে এলাকায় জনসংযোগে নামেন পার্থ। তৃণমূল সুপ্রিমোর প্রতি তাঁর আস্থার কথাও জানান। কিন্তু, ভোট ময়দানে শিকে ছিঁড়ল না তাঁর।
পার্থ এখনও বিধায়ক হলেও তিনি মন্ত্রী হিসেবে প্রাক্তন। তবে মন্ত্রী পদে এখনও থেকে টিকিট পেলেন না পাঁচজন। কারা পেলেন না টিকিট? বাবুল সুপ্রিয়, মনোজ তিওয়ারি, জ্যোৎস্না মান্ডি, তাজমুল হোসেন এবং বিপ্লব রায়চৌধুরী।
এই পাঁচজনের মধ্যে বালিগঞ্জের বিধায়ক বাবুল সুপ্রিয় সদ্য রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। বিজেপি ছেড়ে তিনি তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর বালিগঞ্জে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধায়ক হন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেন। বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তি দফতরের মন্ত্রী তিনি। কিন্তু, নিজের গানের জন্য বাবুল রাজ্যসভায় যেতে চান। তাঁর ইচ্ছেকে মর্যাদা দিয়ে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে তৃণমূল। প্রত্যাশিতভাবেই এদিনের প্রার্থী তালিকায় তাঁর নাম নেই। বাবুলের বালিগঞ্জ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে।
বাকি মন্ত্রীদের মধ্যে বর্তমানে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী পদে রয়েছে জ্যোৎস্না মান্ডি। ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র মাঝারি উদ্যোগ ও বস্ত্র দফতরের প্রতিমন্ত্রী তাজমুল হোসেন। যুব ও ক্রীড়া দফতরের প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি। আর মৎস্য দফতরের মন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরী।
এই চারজন টিকিট পেলেন না। বাঁকুড়ার রানিবাঁধের বিধায়ক জ্যোৎস্না মান্ডি। তাঁর জায়গায় সেখানে প্রার্থী হলেন তনুশ্রী হাঁসদা। মনোজ তিওয়ারি শিবপুরের বিধায়ক। সেখানে প্রার্থী করা হল রানা চট্টোপাধ্যায়কে। আর মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে তাজমুল হোসেনের জায়গায় প্রার্থী করা হল মহম্মদ মাতেবুর রহমানকে। পূর্ব মেদিনীপুরের বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক বিপ্লব রায়চৌধুরীও এবার টিকিট পাননি। তাঁর জায়গায় পাঁশকুড়া পূর্ব আসনে তৃণমূল প্রার্থী করেছে অসীম কুমার মাজিকে।
এদিন প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যাঁদের টিকিট দেওয়া সম্ভব হল না, তাঁদের সংগঠন কিংবা অন্য কাজে লাগানো হবে। আর দলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে তৃণমূলের তরফে বলা হয়, নিচুস্তরে কাজ করেছেন কিংবা করছেন, মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এরকম কর্মীদেরই প্রার্থী করা হয়েছে। প্রার্থী বাছাইয়ে পারফরম্যান্সের উপরই যে জোর দেওয়া হয়েছে, তা বুঝিয়ে দিয়েছে শাসকদল।