
কলকাতা: একসময়ে তাঁর কেরামতিতেই পদ্ম ফুটেছিল রাজ্যের দিকে দিকে। সাংগঠনিক শক্তিতেও অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল বিজেপি। সেই দিলীপ ঘোষই যেন দীর্ঘদিন থেকে ‘ব্রাত্য’ পার্টির অন্দরেই। নেতৃত্বের টানাপোড়েন নিয়েও বিস্তর চাপানউতোর চলেছে রাজনৈতিক মহলে। একদিন আগেই অমিত শাহের ডাকে একেবারে ওয়ান টু ওয়ান বৈঠক করেছেন। এদিনই আবার বঙ্গ বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতির সঙ্গে বৈঠকও করে ফেললেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। তারপরই শমীক ভট্টাচার্য বললেন, এবার দিলীপ ঘোষ খেলবেন মাঠজুড়ে। দিলীপের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে বলতে গিয়ে শমীক বলছেন, এতদিন বাড়িতে বসে রূপরেখা তৈরি করছিলেন দিলীপ। ভোটে এবার সঙ্ঘবদ্ধ বিজেপিকে দেখবে বাংলা।
দলে আনুষ্ঠানিক ভাবে সক্রিয় হওয়ার পরে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ দুর্গাপুরে একসঙ্গে সভা করতে চলছেন আগামী ১৩ জানুয়ারি। সূত্রের খবর, ৬ থেকে ২০ জানুয়ারি বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ১৬টি সভা করতে পারেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর ৬ তারিখের কর্মসূচি ছিল ব্যারাকপুরে। এতদিন দিলীপ ঘোষ কর্মসূচি করলেও তার সঙ্গে দলের সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু এবার থেকে দিলীপ ঘোষের কর্মসূচিকে রাজ্য নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিচ্ছে বলেই খবর। দিলীপ ঘোষের যেসব কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল সেই কর্মসূচিতেই অনুমোদন দিল দল। আগামী ৬ জানুয়ারি ব্যারাকপুরে সভা করার কথা দিলীপের। সেখানেও থাকতে পারেন শমীক ভট্টাচার্য। জানুয়ারির গোড়ায় ব্যারাকপুরের পাশাপাশি কোচবিহারেও সভা রয়েছে দিলীপের। সূত্রের খবর, সেটাও দল অনুমোদন করেছে।
শমীক বলছেন, “দিলীপ ঘোষ প্রায় কৈশোর থেকে এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। উনি বাড়িতে বসে থাকবেন কেন? কখন কে কীভাবে ময়দানে নামবে সেটা তো ঠিক করবে পার্টি। মাঠজুড়ে খেলবেন উনি। বাংলার পাহাড় থেকে সাগর, স্বমহিমায় দিলীপ ঘোষ কে আবার দেখতে পাবেন। ওনার স্বকীয় ভঙ্গিতেই দেখতে পাবেন।” অন্যদিকে জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দিলীপ ঘোষের উপস্থিতির প্রসঙ্গ উঠলে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “জগন্নাথ মন্দির এখন ক্লোজড চ্যাপ্টার। দিলীপ বাবু জগন্নাথ কে সাক্ষী রেখেই তৃণমূলের বিসর্জন করার শপথ নিতে গিয়েছিলেন। ওসব এখন অতীত।”