
কলকাতা: সেলিম-হুমায়ুন বৈঠকেই আড়াআড়ি বিভাজন সিপিএমে? বৃহস্পতিবার থেকেই প্রশ্ন ঘুরছে রাজনৈতিক আঙিনায়। দলীয় সিদ্ধান্তেই হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সেলিম। ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রবীন দেবের। অন্যদিকে প্রাক্তন মন্ত্রী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, সিপিএম সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে জোট করবে না। অন্যদিকে রবীন বলছেন, দল সম্পর্কে যাঁদের ধারনা অস্বচ্ছ, তাঁরা এ ধরনের মন্তব্য করেন। তাঁর সাফ কথা, “সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য, রাজ্য কমিটির সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। যখন মহম্মদ সেলিম কোনও বক্তব্য রাখে তখন সেটাই সর্বোচ্চ বক্তব্য। এখানে অন্যরা কী বলল না বলল সেটা অপ্রাসঙ্গিক। কমিউনিস্ট পার্টি পরিচালনা সম্পর্কে যাদের সামান্য জ্ঞান আছে তাঁরা এ প্রশ্ন করে না। যাঁদের পার্টি সম্পর্কে বোঝাপড়া অস্বচ্ছ, যাঁরা জেনেও না জানার ভান করে তাঁরাই এসব প্রশ্ন করে।”
এদিকে কান্তি বলছেন, “আমি এখনও পার্টির সদস্য। পার্টির যা সিদ্ধান্ত তা আমাকে মেনে চলতে হবে। বিভিন্ন লোকের সঙ্গে কথাবার্তা বলছি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছি। একটা বড় অংশই বলছে জোট না হয়ে বামপন্থীরা নিজেরাই লড়ুক। সিট পাওয়া বড় কথা নয়। শতাংশের বিচারে কত বৃদ্ধি হল সেটাই বড় কথা। সার্বিক জোট হওয়া বড় কঠিন।” যদিও শেষে তাঁর সংযোজন, “তবে পার্টি যা সিদ্ধান্ত নেবে সেটা সবাইকে মেনে চলতে হবে।”
তবে খোঁচা দিতে ছাড়ছে না তৃণমূল। কটাক্ষের সুরেই তৃণমূল মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ বলছেন, “বামপন্থী মানেই সিপিএম এটা, সিপিএমের তৈরি করা ন্যারেটিভ। সিপিএম ছাড়াও গোটা পৃথিবীতে প্রচুর মানুষ বামপন্থী আছে। এখন সিপিএম আদতে কতটা বামপন্থী সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এই ঘটনা নিয়ে। তাঁদেরই বিভিন্ন নেতারা বলছেন হুমায়ুনের সঙ্গে মিটিং করতেই পারেন। তাহলে তাঁরা তাঁদের নীতি আদর্শের কথা সরিয়ে রেখে বলতে পারেন আমরা শুধু ভোটে জেতার জন্য যা ইচ্ছা তাই করতে পারি। আগেই তো সিপিএমের একটা বড় অংশের ভোট শিফট করিয়ে দেওয়া হয়েছিল বিজেপির দিকে। নিচুতলা গাঁটছড়াও বাঁধা হয়েছিল।”