
কলকাতা: রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনীতিতেও তাঁর দখল সর্বজনবিদিত। বিজেপি বিধায়ক সেই অশোক লাহিড়ীকেই এদিন অপমান করার অভিযোগ উঠেছে অর্থ দফতরের স্বাধীন দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতি মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি বালুরঘাটের বিধায়ক। দেশের অর্থনৈতিক মহলেও ভারতীয় জনতা পার্টির এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের ভালই খ্যাতি রয়েছে। শিক্ষাজীবন থেকে কর্মজীবন, রাজনীতির পাশাপাশি গোটা জীবনই অর্থনীতির প্রতি তাঁর যে গভীর প্রজ্ঞা তারই ছাপ বিদ্যমান। কর্মজীবনে তিনি কেবল রাজ্য রাজনীতিতেই নয়, বরং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরেও দীর্ঘকাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেছেন। কাজ করেছেন দেশের হয়ে।
প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এই কৃতী ছাত্র ১৯৭৩ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দিল্লির স্কুল অব ইকোনমিক্স থেকে পিএইডি-ও করেছেন। ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি ভারত সরকারের দ্বাদশ প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা (CEA) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং মনমোহন সিং, উভয়ের আমলেই তাঁর দক্ষতা ও মেধা দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি একাধিক নীতি প্রণয়নেও বিশেষ ভূমিকা রাখে।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ড. লাহিড়ীর কাজের ছাপ খুবই উজ্জ্বল। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (IMF) সিনিয়র অর্থনীতিবিদ, বিশ্বব্যাঙ্কে কনসালট্যান্ট হিসাবে কাজ করেছেন। পাশাপাশি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের (ADB) এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসাবেও কাজ করেছেন। এছাড়াও তিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক ফিন্যান্স অ্যান্ড পলিসি-র ডিরেক্টর এবং বন্ধন ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তিনি দেশের পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের পূর্ণকালীন সদস্য হিসাবেও কাজ করেছেন। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে দেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অশোক লাহিড়ীকে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের আংশিক সময়ের সদস্য হিসেবে নিযুক্ত করেন। পরবর্তীতে, ২০১৮ সালের এপ্রিলে তিনি পূর্ণকালীন সদস্য পদে উন্নীত হন। একইসঙ্গে তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাও দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন।