
কলকাতা: সুপ্রিম-নির্দেশের পরেও মাইক্রো অবজার্ভারদের হুমকি। ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জনের শেষবেলায় প্রশ্নের মুখে ভাঙড়। শুনানি কেন্দ্রে ঢুকে জেলার এক গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে উঠল হুমকির অভিযোগ। বিডিও অফিসে ডেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, বলে অভিযোগ জানালেন মাইক্রো অবজার্ভাররা। এবার এই ঘটনার পরেই বড় পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের।
মাইক্রো অবজার্ভারদের বিডিও অফিস থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ কমিশনের। পাশাপাশি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা নির্বাচনী আধিকারিককেও কাঠগড়ায় তুলল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে ইআরও বা এইআরও-রা মাইক্রো অবজার্ভারদের বিডিও অফিসে ডেকে হুমকি দিচ্ছেন?
ঘটনার সূত্রপাত ভাঙড়ের তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান শাহজাহান মোল্লার হাত ধরে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ মাইক্রো অবজার্ভারদের হুমকি-হুঁশিয়ারি দেওয়ার। বাংলার এসআইআর-এর কাজ একেবারেই শেষের দিকে। দু’একটি জেলাতে এখনও শুনানি চলছে। বাকি জায়গায় শুনানিতে জমা পড়া নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। অভিযোগ, ভাঙড়ে সেই কাজেই বাধা দেওয়া হচ্ছে। বাধা দিচ্ছেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান। তাতে আবার মদত জোগাচ্ছেন ইআরও নিজেও।
মাইক্রো অবজার্ভারদের দাবি, ইআরও-দের শুনানির পরেও অনেক ভোটারের নথিতে অসঙ্গতি ছিল। সেগুলি যাচাই করেই তাঁরা নিজেদের মতো মতামত জমা করেছেন। তাতেই নাকি অসন্তুষ্ট হয়েছেন শাহজাহান এবং সংশ্লিষ্ট ইআরও। তাঁদের সাফ দাবি, যাচাই না করেই পাস করাতে হবে। মাইক্রো অবজার্ভারদের হুমকি দিয়ে শাহজাহান বলেছেন, “এত চেকিং কীসের? পাস করিয়ে দিন।” আর তা না হলে পড়তে হবে ক্ষতির মুখে।
একা শাহজাহান নন, তাঁর সুরে সুর মিলিয়েছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরাও। বারুইপুরের এসডিও হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজেও একই ধরনের বার্তা দিয়েছেন। লিখেছেন এলডি কেস নিয়ে বেশি নজরদারি না করে পাস করিয়ে দেওয়া উচিত। হুমকি দিতে বাদ যাননি ভাঙড়ের বিডিও। বৈঠক ডেকে হুমকি দিচ্ছেন মাইক্রো অবজার্ভারদের। এরপরেই নির্বাচন কমিশনের কাছে নালিশ জানান মাইক্রো অবজার্ভাররা।