
কলকাতা: নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসতে পারবেন সব ভোটার? যুবসমাজের সবাইকে ভোট দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা যাবে? এক সময় ভোটারদের, বিশেষ করে তরুণদের, ভোট দিতে উৎসাহিত করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ম্যাসকট নামিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এবার ভয়মুক্ত নির্বাচনের প্রচারে জোর দিতে বিভিন্নভাবে প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
ইতিমধ্যেই একাধিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ভোটারদের ভয়-ভীতি দূর করতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI) এক বিশাল জনসম্পর্ক অভিযান শুরু করতে চলেছে। সূত্রের খবর , এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হল ‘ভীতি’-র পরিবেশ বদলে ‘অংশগ্রহণ’-এর পরিবেশ তৈরি করা।
কীভাবে হবে প্রচার?
বিভিন্নভাবে জনসম্পর্ক অভিযান চলবে। হেরিটেজ ট্রাম, আউটডোর হোর্ডিং, পোস্টার, ব্যানার এবং নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সরাসরি সংযোগের মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে এই প্রচার চালানো হবে। জনসচেতনতামূলক এই প্রচারে নিরাপদ ও ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের গুরুত্বের উপর জোর দেওয়া হবে।
সম্প্রতি কলকাতায় এসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেছিলেন, “ভোটের পর্ব, পশ্চিমবঙ্গ গর্ব। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি যে, এবার নির্বাচন হবে হিংসামুক্ত ও ভয়ভীতিমুক্ত।” ভোটারদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে বাউল শিল্পী এবং ছৌ নাচ-এর মতো স্থানীয় সংস্কৃতিকে কাজে লাগানো হবে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেছিলেন, “কোনও চাপ থাকবে না। নাগরিকরা বেরিয়ে এসে নিজেদের পছন্দমতো যেকোনও দলকে ভোট দিতে পারবেন।”
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঐতিহ্যগতভাবেই ভোটের হার বেশি থাকলেও, ভোটারদের একটি অংশ ভীতিপ্রদর্শনের কারণে ভোটদান থেকে বিরত থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। সেই উদ্বেগ দূর করতে এবং ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে নানা পদক্ষেপ করা হয়েছে। রাজ্যে নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলগুলো বারবার প্রশ্ন তুলেছে, যা কমিশনের কাছে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে সমস্ত ভোটারকে ভয়মুক্ত হয়ে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়াই কমিশনের লক্ষ্য।