
কলকাতা: বাংলায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সবরকম পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সময়ই জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। আর সেই লক্ষ্যে এবার পুলিশ পর্যবেক্ষকদের কমিশন একগুচ্ছ নির্দেশ দিল। রবিবার দিনভর বৈঠকে পুলিশ পর্যবেক্ষকদের স্পষ্ট করে দেওয়া হল, এবারের নির্বাচনে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নজর দেওয়া নয়, ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কাজও করতে হবে।
বাংলায় এবার মাত্র ২ দফায় ভোট হচ্ছে। আর এই ভোটগ্রহণ পর্বে যাতে নির্বিঘ্নে হয়, সেজন্য তৎপর কমিশন। হিংসামুক্ত নির্বাচন, ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে ভোটাররা যাতে ভোট দিতে পারেন, সেদিকে নজর রাখতে হবে পর্যবেক্ষকদের। ছাপ্পা ভোট বন্ধ করা, বুথ জ্য়ামিং প্রতিরোধ করতে ব্যবস্থা নিতে হবে।
কমিশনের তরফে পুলিশ পর্যবেক্ষকদের আরও একগুচ্ছ নির্দেশ দেওয়া হল। দাগী অপরাধীদের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। কতগুলি অ-জামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে, সেই সংখ্যা খতিয়ে দেখতে হবে। পুলিশ এবং সিএপিএফ (CAPF) মিলে সমস্ত পোলিং স্টেশন পরিদর্শন করেছে কি না, সমস্ত স্পর্শকাতর এলাকা পরিদর্শন করেছে কি না, সেদিকে নজর দিতে হবে।
ওসি-দের সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়গুলি পর্যবেক্ষককে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে। কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারের গাফিলতির ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।ভোটারদের ভয় দেখালে পুনর্নির্বাচন সম্পর্কে পর্যবেক্ষক ব্যাখ্যা করবেন। পুলিশকে এই বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে। যাতে দুষ্কৃতীরা ভয় দেখানো থেকে বিরত থাকে এবং ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে উৎসাহিত হন। সেই সঙ্গে এই ধরনের ঘটনা প্রশাসনের নজরে আনার জন্য তাঁদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
পুলিশ এবং সিএপিএফ-এর মধ্যে কাজের সমন্বয় সম্পর্কে পর্যবেক্ষক তাঁর মতামত নিয়ে রিপোর্ট দেবেন। যদি কোনও সমস্যা থাকে, তবে ডিইও , এসপি, ডিএফসি-র যৌথ বৈঠকে তা সমাধান করতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে কি না, প্রয়োজনে এফআইআর করা হয়েছে কি না এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষক পরীক্ষা করবেন।