
কলকাতা: নথি দেখালে ভাল, না দেখালেও কোনও অসুবিধা নেই। এবার ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জনে বড় ছাড় দিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। এক যোগে নথি নিয়ে ছাড় কমিশনের। কিন্তু কারা পেলেন? সূত্রের খবর,জনজাতি, যৌন কর্মী এবং রূপান্তরকামীদের এই ছাড় দিয়েছে কমিশন।
প্রথম থেকে রূপান্তরকামী এবং যৌনকর্মীদের একটি সমস্যা তৈরি হয়েছিল। ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন নিয়ে আতঙ্ক দেখা গিয়েছিল এশিয়ার বৃহত্তম যৌনপল্লি সোনাগাছিতে। এমনকি, বাংলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে এই মর্মে চিঠিও লিখেছিল যৌনকর্মী এবং তাঁদের সন্তানদের নিয়ে কাজ করা তিনটি সংগঠন।
এই একই রকম দাবি তুলেছিলেন রূপান্তরকামীরাও। এই মর্মে বাংলার সিইও-র দফতরে গিয়ে একটি ডেপুটেশনও জমা দিয়ে এসেছিলেন তাঁরা। রূপান্তরকামীদের সেই সংগঠনের এক প্রতিনিধি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেছিলেন, ‘আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই রয়েছেন, যাঁরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। অনেকের নাম ২০০২ সালের সংশোধিত তালিকায় নাম রয়েছে। কিন্তু যাঁদের নাম নেই, তাঁদের জন্য গুরু মা-র নাম ব্যবহারের অনুমতি চাইতে এসেছিলাম।’
খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়ে গিয়েছে। রাজ্যজুড়ে শুনানি চলছে। এই আবহেই যৌনকর্মী ও রূপান্তরকামীদের দাবিতে সিলমোহর দিল নির্বাচন কমিশন। যৌন কর্মীদের ক্ষেত্রে নথি দেখালেও চলবে, না দেখালেও চলবে। রূপান্তরকামীদের ক্ষেত্রে ‘গুরু মা’দের গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই পর্বে জনজাতিদেরও নথির ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিয়েছে কমিশন। নথি ছাড়াই শুনানিতে আসতে পারেন তাঁরা। পাশাপাশি এই মর্মে ইআরও-দের দিয়েছে স্থানীয় স্তরে নথি না-দেখানোদের নিয়ে খোঁজ খবর নেওয়ার নির্দেশ। সঙ্গে মাধ্য়মিকের অ্যাডমিট কার্ডকেও গ্রহণযোগ্য নথি করার আবেদন জানিয়েছেন বাংলার সিইও।