AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

El Nino Floods WB: বাড়তি নিম্নচাপেও ‘এল নিনো’র ধাক্কায় ‘ইন্টারনাল হেমারেজ’ দেশে

El Nino floods India West Bengal: এল নিনো! প্রশান্ত মহাসাগরের জলতলের তাপমাত্রা মাত্রাতিরিক্ত বাড়লে ভারতীয় উপমহাদেশে বৃষ্টি কম হওয়াই দস্তুর। তবে কি সত্যিই এল নিনোর প্রভাব পড়ল না দেশে? প্রভাব অবশ্যই পড়েছে। এবং এই প্রভাব খানিকটা মানবশরীরে ইন্টারনাল হেমারেজের মতো।

El Nino Floods WB: বাড়তি নিম্নচাপেও 'এল নিনো'র ধাক্কায় 'ইন্টারনাল হেমারেজ' দেশে
প্রতীকী চিত্রImage Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Sep 30, 2026 | 11:25 PM
Share

কমলেশ চৌধুরী

অসমে বন্যা। গুজরাতে বন্যা। বানভাসি উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ওড়িশা, ছত্তীসগঢ়। একবার নয়, দু’দফায় বানভাসি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ। পূর্ব মেদিনীপুরে ৪৮%, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৪০% বেশি বৃষ্টি। উত্তর ২৪ পরগনায় ২৯%, কলকাতায় ২৮% বেশি বৃষ্টি। বন্যার ছবি বা অতিবৃষ্টির অঙ্ক দেখলে বোঝা দুষ্কর, প্রশান্ত মহাসাগরের জঠরে শক্তি বাড়িয়েই চলেছে এল নিনো!

এল নিনো! প্রশান্ত মহাসাগরের জলতলের তাপমাত্রা মাত্রাতিরিক্ত বাড়লে ভারতীয় উপমহাদেশে বৃষ্টি কম হওয়াই দস্তুর। তবে কি সত্যিই এল নিনোর প্রভাব পড়ল না দেশে? প্রভাব অবশ্যই পড়েছে। এবং এই প্রভাব খানিকটা মানবশরীরে ইন্টারনাল হেমারেজের মতো। বাইরে থেকে রোগী ঠিক মনে হলেও, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ খাদের কিনারায় ঠেলে দেয়। এল নিনোও ঠিক তাই-ই করেছে। বন্যাবিধ্বস্ত ভারতের মধ্যেই জলের জন্য হাতড়াচ্ছে খরাক্লিষ্ট ভারত।

খরাক্লিষ্ট ভারতের ছবিটা বেশ করুণ। বর্ষার শুরুতে মৌসম ভবন আভাস দিয়েছিল, এ বার বর্ষায় স্বাভাবিকের ১০% কম বৃষ্টি হতে পারে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর, ৪ মাস শেষে ঘাটতি দাঁড়িয়ে ১৩ শতাংশে। শেষ ২০১৫ সালে এত বেশি ঘাটতি দেখেছিল ভারত। সে বার ঘাটতি ছিল ১৪%। এবং সে বছরও শক্তিশালী এল নিনো ছিল প্রশান্ত মহাসাগরে। বস্তুত সেই এল নিনোর দাপটে ২০১৪ এবং ২০১৫, পর পর ২ বছর মারাত্মক ঘাটতির মুখে পড়েছিল দেশ। ২০২৬-এ ফেরা যাক। মৌসম ভবন বলছে, ১২৫ বছরে শুষ্কতম বর্ষার তালিকায় ১৩তম তালিকায় থাকবে ২০২৬। চলতি শতাব্দীর চতুর্থ শুষ্কতম বর্ষা: ২০০২, ২০০৯, ২০১৫-র পর ঠাঁই ২০২৬-এর। দক্ষিণ ভারতের অবস্থা শোচনীয়। দক্ষিণের সব রাজ্যেই মাত্রাছাড়া ঘাটতি। মৌসম ভবনের হিসেব বলছে, পূর্ব-উত্তরপূর্ব ভারতে এবারই সবচেয়ে বেশি ঘাটতি। ১২৫ বছরের শুষ্কতম বর্ষা পূর্ব-উত্তরপূর্ব ভারতে।

পূর্ব-উত্তরপূর্ব ভারত। এই তল্লাটের মধ্যেই পড়েন বঙ্গবাসীরা। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গের মানুষ, যাদের ঘরবাড়ি এখনও জলে ডুবে, কলকাতা-হাওড়ার মানুষজন, যারা টানা বৃষ্টিতে তিতিবিরক্ত, নিম্নচাপের নাম শুনলেই আঁতকে উঠছেন, ‘শুখা’ বর্ষার এই অঙ্ক তাঁদের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতেই পারে। আরও কিছু তথ্য দেওয়া যাক। মৌসম ভবন বলছে, বর্ষার ৪ মাসে দেশের ৭৪১টি জেলার মধ্যে ২৮২ জেলায় বৃষ্টিতে ঘাটতি। যা মোট জেলার ৩৮%। ৩৪ জেলায় আরও বড় ধরনের ঘাটতি। যা মোট জেলার ৫%। অর্থাৎ দেশের প্রায় অর্ধেক জেলাতেই ঘাটতি-বর্ষা।

‘ইন্টারনাল হেমারেজ’ বাংলাতেও। এই যেমন সার্বিক ভাবে দক্ষিণবঙ্গে ৮% বেশি বৃষ্টি হয়েছে। সব ‘স্বাভাবিক’ মনে হচ্ছে! কিন্তু দক্ষিণবঙ্গেরই নদিয়ায় ২২% ঘাটতি। অর্থাৎ চার ভাগের প্রায় এক ভাগ বৃষ্টিই হয়নি। মুর্শিদাবাদে ঘাটতি ১৬%। উত্তরবঙ্গ-সিকিম মিলিয়ে ঘাটতি ১০%। এতে উত্তরের ছবিটা পুরোটা স্পষ্ট হয় না। ইন্টারনাল হেমারেজের ছবিটা স্পষ্ট হয় জেলাওয়াড়ি হিসেব দেখলে। উত্তরের জেলায় ঘাটতি এইরকম: উত্তর দিনাজপুর ৩৩%, মালদহ ২৯%, জলপাইগুড়ি ২৬%, দক্ষিণ দিনাজপুর ২৫%, দার্জিলিং ২১%।

অথচ বৈপরীত্যের কী খেলা! মালদহেরই ভুতনি একমাসের বেশি সময় বন্যায় ডুবেছিল। যে অসম ইদানীংকালের সবচেয়ে বড় বন্যার মুখে পড়ল, সেই অসমে ২৮% বর্ষা-ঘাটতি। অরুণাচল প্রদেশে ঘাটতি ৪৪%। মেঘের রাজ্য মেঘালয়ে ঘাটতি আরও বেশি, ৬০%। অর্ধেক বৃষ্টিই পায়নি বৃষ্টির রেকর্ডধারী চেরাপুঞ্জি-মৌসিনরাম। মৌসম ভবন বলছে, অসম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ, পঞ্জাব, এই ৪ রাজ্য বর্ষার প্রতিটি মাসেই ঘাটতির মুখে পড়েছে। জুন, জুলাই, অগাস্ট, সেপ্টেম্বর, কোনও মাসেই স্বাভাবিক বৃষ্টির মুখ দেখেনি। বৈপরীত্য আরও আছে। মহারাষ্ট্রের কথাই ধরা যাক। ২৬ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের ২৬৫ তালুকে খরা ঘোষণা করে দেবেন্দ্র ফডণবীস সরকার। সেই তালিকায় ছিল গড়চিরৌলিও। অথচ খরা ঘোষণার দিনই নিম্নচাপের বৃষ্টি আর ছত্তীসগঢ়ের জলে ভেসে যায় খরাক্লিষ্ট গড়চিরৌলি। গত ক’দিন ধরেই নিম্নচাপের বৃষ্টি আর নেপালের জলে বিহার ভাসছে। বর্ষার ৪ মাস শেষে এই বিহারেই ঘাটতি ৩২%!

Whatsapp Image 2026 09 30 At 9.31.22 Pm

মৌসম ভবনের ডিরেক্টর জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র বলছেন, ‘এল নিনোর জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত! যদি না পরের পর নিম্নচাপ সৃষ্টি হত বঙ্গোপসাগরে।’ জুন মাসে ৩৫% ঘাটতি ছিল দেশে। ঘাটতির সেই খাদ থেকে দেশকে তুলে আনে জুলাইয়ের বৃষ্টি। নেপথ্যে একটি অতি গভীর নিম্নচাপ, একটি গভীর নিম্নচাপ, দু’টি সাধারণ নিম্নচাপ। সবমিলিয়ে বর্ষায় ১৪টি নিম্নচাপ। হওয়ার কথা ১৩টি। স্বাভাবিকের চেয়ে একটি নিম্নচাপ বেশি পাওয়াই নয়, তাৎপর্যপূর্ণ হল, নিম্নচাপের স্থায়িত্ব। গোটা বর্ষা মিলিয়ে ৫৭ দিনের পরিবর্তে ৭৭ দিন নিম্নচাপের উপস্থিতি পেয়েছে দেশ। এই নিম্নচাপের জন্যই ওড়িশায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, মধ্য ভারতে বর্ষা ‘স্বাভাবিক’! না-হলে ঘাটতি আরও বাড়ত, স্রেফ ইন্টারনাল হেমারেজ হয়ে থেকে যেত না।

তবে যে ক্ষতি হয়েছে তাতেই এ বছর ২৬ লক্ষ টন কম ফসল উৎপাদনের আশঙ্কা করছে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রক। খরিফ চাষ ধাক্কা খেয়েছে, এবার দুশ্চিন্তা রবি মরশুম নিয়ে। কারণ এল নিনো আরও দামাল হওয়ার ইঙ্গিতই দিচ্ছে!

Follow Us