
কলকাতা: ১৯৯০ সাল। গোটা দেশের নজর কেড়েছিলেন লালকৃষ্ণ আডবাণী। অযোধ্য়ায় বাবরি মসজিদের স্থানে রামমন্দির নির্মাণের দাবিতে এক মাস থেকে ‘রাম রথযাত্রা’ করেছিলেন তিনি। বলা হয়, বাবরি আক্রমণের বীজটা সেই দিনই পুঁতে দিয়েছিলেন আডবাণী। সেই সময় কেটে গিয়েছে। রামমন্দিরও তৈরি হয়ে গিয়েছে। দশক পুরনো অভিসন্ধির বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছে বিজেপি। যুগ বদলেছে, সময় বদলেছে, নেতৃত্ব বদলেছে। বদলায়নি গেরুয়া শিবিরের কৌশল ও অভিসন্ধি। বদলায়নি রথযাত্রা।
নির্বাচনকে মাথায় রেখে মার্চ মাসেই দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে রথযাত্রা করার চিন্তা করছে বাংলার গেরুয়া শিবির। শনিবার দলের কৌশল, নির্বাচনী ভাবনা নিয়ে সল্টলেকের কার্যালয়ে বসেছিল কোর কমিটির বৈঠক। তাতেই সিলমোহর পড়েছে রথযাত্রার ভাবনায়। সূত্রের খবর, ২০১৯, ২০২১ এবং ২০২৪ সালে বাংলার যে সকল কেন্দ্রে ভালো ফল হয়েছিল বিজেপির। সেই সকল এলাকা হয়েই হতে পারে রথযাত্রা। সেক্ষেত্রে মোট ১৫০টি বিধানসভা কেন্দ্র নজরে রয়েছে গেরুয়া শিবিরের।
রথযাত্রা মিটলেই কলকাতার ব্রিগেড প্য়ারেড গ্রাউন্ডে হবে জনসভা। যদিও পরীক্ষার মরসুম শেষ হলেও জনসভায় জোর দেবে বলে জানিয়ে দিয়েছে বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকেই বিএসএফ-এর একটি কর্মসূচির জন্য বাংলায় আসছেন অমিত শাহ। সেই সময়েই এই নিয়ে হতে পারে সাংগঠনিক বৈঠক।
সূত্রের খবর, ব্রিগেডের মাঠে বিজেপির জনসভার ভাবনা সফল হলে, তাতে প্রধান বক্তা হিসাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানাতে পারে গেরুয়া শিবির। কিন্তু এই জনসভা যে আদৌ কবে হবে, তা এখনও চূড়ান্ত করে উঠতে পারেনি নেতৃত্ব। অবশ্য় শুধু কলকাতা নয়, শহরে ভাবনার বাস্তবায়ন ঘটলেও উত্তরবঙ্গেও ব্রিগেডের মতোই জনসভা করতে পারে বিজেপি।
বাংলার নির্বাচন একেবারে দোরগোড়ায়। মার্চ মাসের প্রথমেই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। সুতরাং, প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও এবার দ্রুত সেরে ফেলতে হবে। গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর, চলতি মাসের মধ্যে বিধানসভাভিত্তিক প্রার্থী তালিকা জেলাগুলি থেকে নিয়ে দিল্লির কাছে পাঠাতে চায় রাজ্য বিজেপি। প্রতিটি আসনের জন্য তিনটি বিকল্প প্রার্থীকে বাছাই করবে বঙ্গের শীর্ষ নেতৃত্ব। তারপর তা যাবে হাইকমান্ডের কাছে। সেখান থেকেই বাছাই হয়ে আসবে চূড়ান্ত তালিকা। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্য়ে সেই তালিকা কয়েক দফায় প্রকাশ করাও শুরু করে দিতে পারে বিজেপি।