Ashoke Sen: কলকাতার ছেলে পেয়েছেন নোবেলের থেকে তিনগুণ দামি পুরস্কার, এখনও সাইকেল চালিয়েই কাজে যান বিজ্ঞানী অশোক সেন
Oskar Klein Medal: পিএইচডি করার জন্য যখন বিদেশে আবেদন করার সময় এল, তিনি মাত্র দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছিলেন। কোনও বিশেষ কারণে নয়, মাত্র ওই দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ই তাঁর সামর্থ্যের মধ্যে ছিল। এর মধ্যে একটি ছিল স্টোনি ব্রুক ইউনিভার্সিটি। তিনি সেখানে সুযোগ পান।

কলকাতা: থিওরেটিক্যাল ফিজিক্স বা মৌলিক পদার্থবিদ্যায় অস্কার ক্লেইন মেডেল পেয়েছেন বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক অশোক সেন। তিনিই প্রথম ভারতীয়, যিনি এই সম্মান পেলেন। এই পুরস্কারের গুরুত্ব বা তাৎপর্য কতটা, তা বুঝতে কয়েকজনের উদাহরণই যথেষ্ট। কলকাতার বিজ্ঞানী আজ যে সম্মান অর্জন করেছেন, একসময় স্টিফেন হকিং ও পিটার হিগসের মতো বিজ্ঞানীদেরও সেই সম্মানে সম্মানিত করা হয়েছে। এটি থিওরেটিক্যাল ফিজিক্সের জগতে সর্বোচ্চ সম্মান।
ব্ল্যাক হোল এন্ট্রোপি, এস ডুয়ালিটি ও স্ট্রিং ফিল্ড থিওরিতে অবদানের জন্যই অশোক সেনকে এই সম্মানে সম্মানিত করা হয়েছে। তিন মিলিয়ন ডলার পুরস্কার পেয়েছেন তিনি, যা নোবেল পুরস্কারের তুলনায় তিন গুণ বেশি।
বর্তমানে তিনি বেঙ্গালুরুতে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল সায়েন্সে কর্মরত, যা টাটা ইন্সটিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চেরই অংশ। গোটা বিশ্বের কাছে তিনি এখন পরিচিত। তবে এই সম্মান, খ্যাতি তাঁর জীবনে কোনও বিশেষ পরিবর্তন আনেনি। এখনও তিনি সাইকেল চালিয়ে কর্মস্থলে যান।
প্রেসিডেন্সির ছাত্র অশোক সেন-
কলকাতায় বেড়ে ওঠা এই বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীর। তাঁর বাবাও পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক ছিলেন। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে যখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা পিছিয়ে যায়, তখন এমএসসি করার জন্য আরও দু’বছর নষ্ট হওয়া এড়াতে কলকাতা ছেড়ে চলে যান তিনি। ভর্তি হন আইআইটি কানপুরে।
এরপরে পিএইচডি করার জন্য যখন বিদেশে আবেদন করার সময় এল, তিনি মাত্র দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছিলেন। কোনও বিশেষ কারণে নয়, মাত্র ওই দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ই তাঁর সামর্থ্যের মধ্যে ছিল। এর মধ্যে একটি ছিল স্টোনি ব্রুক ইউনিভার্সিটি। তিনি সেখানে সুযোগ পান।
আমেরিকা ছেড়ে ভারতে ফিরে আসেন-
ফার্মিল্যাব এবং স্ট্যানফোর্ডে গবেষণার পর, তিনি আমেরিকায় স্থায়ী চাকরির অফার ফিরিয়ে দিয়ে ১৯৮৮ সালে ভারতে ফিরে আসেন। কোনও চাকচিক্যময় বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে তিনি এলাহাবাদের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন।
২০১২ সালে তিনি মৌলিক পদার্থবিদ্যায় ‘ব্রেকআউট প্রাইজ’ পান। মজার বিষয়, পরের দিন সকালেই তিনি তাঁর ৩০ লক্ষ ডলার পুরস্কারের একটি বড় অংশ দান করে দেন। এরপর সাইকেলে চেপেই এলাহাবাদের অফিসে যান নিজের রিসার্চে ডুবে যেতে। এরপরে ২০১৪ সালে ডিরাক মেডেল পান। ২০০১ সালে পদ্মশ্রী ও ২০১৩ সালে পদ্মভূষণও পান তিনি।
