Calcutta High Court: জেলের মধ্যে ঠিক কী ঘটেছিল? যাদবপুরকাণ্ডে প্রতিবাদী ছাত্রীদের ‘মারধরের’ তদন্তে এবার মুরলীধর শর্মা, নির্দেশ হাইকোর্টের
Calcutta High Court: সোজা কথায়, রাজ্যের যুক্তি সব অভিযোগই মিথ্যা। বুটের আঘাত, বেত দিয়ে মারা, মোম জ্বালানো ইত্যাদি কী বিশ্বাসযোগ্য? গল্প মনে হচ্ছে! বারবার এ কথাই বলা হয় রাজ্যের তরফে। কেন সব অভিযোগ তিনদিন পর হল সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।

কলকাতা: যাদবপুরকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় ছাত্রীকে জেলের মধ্যে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল পুলিশের বিরুদ্ধে। এসএফআইয়ের ডাকা ধর্মঘটের দিনে মেদিনীপুরের ওই ঘটনায় তোলপাড় চলেছে বঙ্গ রাজনীতির আঙিনায়। জল গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। এবার এই মামলায় তদন্তের জন্য আইজি মুরলী ধর শর্মাকে নিয়োগ করল আদালত। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তবে পুলিশের মরাল ভাঙা যাবে না, এদিনের শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণও দেখা গিয়েছে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের।
এখন থেকে গোটা ঘটনার তদন্তে নেতৃত্বে দেবেন মুরলীধর শর্মা। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা-সহ পুলিশের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ খতিয়ে দেখে রিপোর্টও দেবেন তিনি। এমনটাই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারকেও হলফনামা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফে।
মেদিনীপুর কলেজ আন্দোলনকারীদের থানায় তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনায় সুচরিতা দাস, সুশ্রীতা সরেনেদের পক্ষ থেকে এই মামলা লড়ছেন আইনজীবী শামিম আহমেদ ও আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ন চট্টোপাধ্যায়ের। শামিমের দাবি, ঘটনার ভিডিয়ো ফুটেজ আছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে ছাত্রীকে ধাক্কা দেওয়া হচ্ছে। এদিন আদালতে তিনি বলেন, পুলিশ বলছে ওকে বের করে আন তারপর দেখছি। রাত দু’টো পর্যন্ত থানায় আটকে রাখা হয়। এটা বেআইনি আটকের ধারায় পড়ে বলে শামিমের দাবি। পুলিশ কী হেনস্থা করতে পারে, থাপ্পড় মারতে পারে এইভাবে? এদিন আদালতের কাছে এই প্রশ্নও করেন শামিম। অন্যদিকে ভিডিয়ো ফুটেজ আনানোর কথা বলেন জয়ন্ত।
পাল্টা বিচারপতি বলেন, “ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যেতে পারেন। আগে অনুসন্ধান হওয়া উচিত। তারপরে FIR হবে কি না সেটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখানে যে অভিযোগ যা করা হচ্ছে তাতে তদন্তের প্রয়োজন আছে। নাহলে সব ওসি বিপদে পড়তে পারেন।” অন্যদিকে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, “আইসি চেম্বারে চা খাওয়ার পর আইনজীবীর সঙ্গে বেরিয়ে যান। লাঞ্চ করেন। ঘুমিয়ে পড়েন লকআপেই। সিসিটিভিতে সব রেকর্ড আছে। দু’বার একটি সংগঠনের সঙ্গে কথাও বলেন। তারপরে নির্যাতনের অভিযোগ কীভাবে?”
সোজা কথায়, রাজ্যের যুক্তি সব অভিযোগই মিথ্যা। বুটের আঘাত, বেত দিয়ে মারা, মোম জ্বালানো ইত্যাদি কী বিশ্বাসযোগ্য? গল্প মনে হচ্ছে! বারবার এ কথাই বলা হয় রাজ্যের তরফে। কেন সব অভিযোগ তিনদিন পর হল সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে। দুটি ঘটনার কথা উঠে এলেও একই পুুলিশের বিরুদ্ধে। এটাই সন্দেহের চোখে দেখছে পুলিশ। এ নিয়েই সমস্ত সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি বলেন হলফনামার কথায়। তাঁর স্পষ্ট কথা, যেহেতু রাজ্য সব অভিযোগ মিথ্যা বলছে হচ্ছে তাই একটা হলফনামা জমা দিন। একইসঙ্গে অভিযোগকারীনিদের মধ্যে একজন যে তফসিলি জাতির তাও মনে করায় আদালত। তারপরই সাফ বলা হয়, অভিযুক্ত অফিসারকে সিসিটিভি ফুটেজ দিতে হবে। এমমকী প্রয়োজনে মেডিকেল বোর্ডের কথাও বলা হয়। যদিও এত অল্প অঘাতে কেন মেডিকেল বোর্ড সেই প্রশ্ন তোলা হয় রাজ্যের তরফে। সুচরিতার মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ২৬ মার্চ। একইসঙ্গে সুশ্রিতা-সহ চার ছাত্রীর মামলা ফের শোনা হবে বুধবার।
