BJP’s state headquarters in Kolkata: বিজেপির সদর দফতর রয়েছে মুরলীধর সেন লেনে, জানেন কে ছিলেন এই মুরলীধর সেন?
6 Muralidhar Sen Lane is the heart of Bengal politics, Here is the the man behind the name: মুরলীধর সেন লেন’। কয়েক দশক ধরে এই রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা গেরুয়া রঙের পুরনো বাড়িটি বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রেখেছে। কিন্তু রোজ খবরের শিরোনামে এই ঠিকানার নাম উঠে এলেও, কিন্তু অনেকেই জানেন না, আসলে কে এই মুরলীধর সেন।

6 Muralidhar Sen Lane is the heart of Bengal politics, Here is the the man behind the name: মুরলীধর সেন লেন’। কয়েক দশক ধরে এই রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা গেরুয়া রঙের পুরনো বাড়িটি বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রেখেছে। কিন্তু রোজ খবরের শিরোনামে এই ঠিকানার নাম উঠে এলেও, কিন্তু অনেকেই জানেন না, আসলে কে এই মুরলীধর সেন।
কে এই মুরলীধর সেন?
চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ এবং মহাত্মা গান্ধী রোডের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থিত এই সরু গলিটি আজ ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজ্য সদর দফতর হিসেবে খ্যাত। তবে এই নামকরণের ইতিহাস বিজেপি বা জনসংঘের চেয়েও অনেক পুরনো। বলা ভালো এর ইতিহাসের সঙ্গে গেরুয়া রাজনীতির সরাসরি কোনও সম্পর্কই ছিল না।
মুরলীধর সেন লেনের সম্পর্কে জানতে টিভি নাইন বাংলার তরফ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল, কলকাতা বিশেষজ্ঞ হরিপদ গোস্বামীর সঙ্গে, তিনি জানান, ৬২নং ভবানীচরণ দত্ত লেন থেকে রাস্তাটি শুরু। রামকমল সেনের পুত্র হলেন মুরলীধর সেন। ১৮৫০-৫২ সালে হিন্দু কলেজে শিক্ষাপ্রাপ্ত হন তিনি। তৎকালীন সুপ্রিম কোর্টে প্রথম দিকের অ্যাটর্নিও হন। ওকমি অ্যান্ড ব্যারো অ্যাটর্নি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ছিলেন। অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট, কলকাতা পুরসভার কমিশনারও ছিলেন মুরলীধর সেন।
সেই সময়ে কলকাতার উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অবদানের জন্য ব্রিটিশ শাসনকালেই তাঁর সম্মানার্থে এই গলিটির নামকরণ করা হয় ‘মুরলীধর সেন লেন’। স্থানীয় ইতিহাসবিদদের মতে, এই অঞ্চলটি একসময় শিক্ষা ও সংস্কৃতির পীঠস্থান ছিল, এবং মুরলীধর সেন ছিলেন সেই সংস্কৃতির অন্যতম পৃষ্ঠপোষক।
তবে শুধুই মুরলীধর সেন নন, তাঁর বাবা রামকমল সেনও ইতিহাসের এক উজ্জ্বলওতম নাম। রামকমল সেন ১৮০৩ খ্রিস্টাব্দে ডা. উইলিয়াম হান্টারের হিন্দুস্থানী প্রিন্টিং প্রেসে কম্পোজিটর ও পরে তত্ত্বাবধায়ক হন। ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে এশিয়াটিক সোসাইটির কেরানির কাজে নিযুক্ত হয়ে নিজ কর্মকুশলতায় ক্রমে ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ভারতীয় হিসাবে সম্পাদকের পদ পেয়েছিলেন । বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার উদ্দেশ্যে স্কুল বুক সোসাইটির পক্ষ থেকে ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি তারিণীচরণ মিত্রের সহযোগে ১৩১ টি কাহিনী সংবলিত ‘নীতিকথা’ প্রথম খণ্ড ও ১৮২০ খ্রিস্টাব্দে ‘হিতোপদেশ’ গ্রন্থ দুটি সংকলন ও অনুবাদ করেন। ‘ফার্মাকোপিয়া’ গ্রন্থে’র অনুবাদ করেন ‘ঔষধসার সংগ্রহ’ নামে । ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দে হিন্দু কলেজর অধ্যক্ষ ছিলেন রামকমল সেন। ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ডা. উইলসনের অধীনে ট্যাঁকশালের দেওয়ান হন। এরপর ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ই নভেম্বর ব্যাঙ্ক অব বেঙ্গলের (পূর্বতন ব্যাঙ্ক অব ক্যালকাটা ) দেওয়ান নির্বাচিত হয়ে আমৃত্যু ওই পদে ছিলেন। এরই সঙ্গে ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে র জুন মাস থেকে ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সংস্কৃত কলেজের সম্পাদক ছিলেন তিনি। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সুপারিশ কমিটির সদস্য, ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে সরকারি বিমা কোম্পানির সাব কমিটির একমাত্র বাঙালি সভ্য, সেভিংস ব্যাঙ্ক কমিটির সদস্য ছিলেন ।
তবে শুধুই এই লেনটি নয়, বিজেপির সদর দফতরের এই বাড়িটও কম উল্লেখযোগ্য নয়। বিজেপির এই সদর দফতরটি জানা যায়, ১৯৫০-এর দশকে ভারতীয় জনসংঘের সময় থেকেই এই বাড়ির একাংশ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত হত। ডঃ শ্যামাপ্রাসাদ মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে অটল বিহারী বাজপেয়ী কিংবা লালকৃষ্ণ আদবানি— ভারতীয় রাজনীতির বহু মহীরুহ এই বাড়িতে এসে তাঁদের রাজনৈতিক আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।
