AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Bikash Bhattacharya on Abhijit Ganguly: অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে যাদবপুরে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল সিপিএম? কী বলছেন বিকাশ

Bikash Bhattacharya on Abhijit Ganguly: বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, "ওঁর মধ্যে একটা ব্যক্তিগত ঝোঁক রয়েছে। একটা ব্যক্তি প্রবণতা রয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টিতে ব্যক্তির গুরুত্ব অবশ্যই রয়েছে। তাঁর ভূমিকাও রয়েছে। কিন্তু, কমিউনিস্ট পার্টিতে সামগ্রিকভাবে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাকে আমরা বলি যৌথ সিদ্ধান্ত, সেই সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে হয়। উনি হয়তো ভেবেছেন যৌথ সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে উনি মানতে পারবেন না। উনি নিজের দিক থেকে ঠিক কথাই বলেছেন।"

Bikash Bhattacharya on Abhijit Ganguly: অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে যাদবপুরে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল সিপিএম? কী বলছেন বিকাশ
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ও বিকাশ ভট্টাচার্য (ফাইল ফোটো)
| Edited By: | Updated on: Mar 09, 2024 | 7:09 PM
Share

কলকাতা: বিচারপতির পদে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তিনি। তমলুক থেকে প্রার্থীও হতে পারেন। বিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও ঘোষণা না করলে তমলুকে তাঁর নামে দেওয়াল লিখন শুরু হয়েছে। কিন্তু, তিনি চাইলে নাকি যাদবপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হতে পারতেন। তবে পদ্ম প্রতীকে নয়। তাঁকে দাঁড়াতে হত সিপিএমের প্রতীকে। প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় TV9 বাংলাকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে এমনই জানিয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্য নিয়ে কী বলছে বাম শিবির? আইনজীবী হিসেবে যাঁকে গুরু মানেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, সেই বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এই নিয়ে মুখ খুললেন। এমনকি, তিনি ব্যক্তিগতভাবে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে সিপিএমে দেখতে চেয়েছিলেন কি না, তা নিয়েও অভিমত জানালেন বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশবাবু।

গত ৫ মার্চ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ২ দিন পর যোগ দেন বিজেপিতে। কিন্তু, তিনি সিপিএমে যোগ দিতে পারেন বলেও জল্পনা ছড়িয়েছিল। এই নিয়ে TV9 বাংলায় এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে অভিজিৎবাবু বলেন, “সিপিআইএমের কাছ থেকেও কিন্তু আমার কাছে প্রস্তাব ছিল যাদবপুর কেন্দ্র থেকে দাঁড়ানোর। আমি ২-৪ দিন সময় নিয়েছিলাম। নিয়ে বলে দিয়েছিলাম, না আমি পারছি না। তাতে ওঁরা হয়তো দুঃখ পেয়েছেন। অনেকেই চেয়েছিলেন আমি আসি।”

অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য নিয়ে বিকাশবাবু বলেন, “যদি কেউ বলে থাকেন, তিনি জানেন। তবে আমার জানা নেই। আমার জ্ঞাতসারে কেউ বলেনি। হয়তো কেউ ব্যক্তিগতভাবে বলে থাকলেও থাকতে পারে। উনি যখন বলছেন, অসত্য কথা তো বলছেন না। কিন্তু, পার্টি থেকে এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, এমন কথা আমার জানা নেই।”

বিকাশবাবু নিজে কি চেয়েছিলেন অভিজিৎবাবু সিপিএমে আসুন? এই প্রশ্নের উত্তরে বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা জানান, তিনি কখনও চাননি অভিজিৎবাবু সিপিএমে আসুন। তাঁর কথায়, “আমি চাইনি কখনও অভিজিৎবাবু সিপিএমে আসুন। কোনও দল নয়, নির্দল হয়ে ভোটে দাঁড়ালে বেশি মানুষের সমর্থন পেতেন। উনি রাজনৈতিক দলের কর্মী নন।”

অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, সিপিএমে পার্টির শৃঙ্খলার নামে চাপিয়ে দেওয়া, এটা করা যাবে, ওটা করা যাবে না, সেটা কোনও ক্রিয়েটিভ লোক মেনে নিতে পারেন না। এই নিয়ে বিকাশবাবু বলেন, “ওঁর মধ্যে একটা ব্যক্তিগত ঝোঁক রয়েছে। একটা ব্যক্তি প্রবণতা রয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টিতে ব্যক্তির গুরুত্ব অবশ্যই রয়েছে। তাঁর ভূমিকাও রয়েছে। কিন্তু, কমিউনিস্ট পার্টিতে সামগ্রিকভাবে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাকে আমরা বলি যৌথ সিদ্ধান্ত, সেই সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে হয়। উনি হয়তো ভেবেছেন যৌথ সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে উনি মানতে পারবেন না। উনি নিজের দিক থেকে ঠিক কথাই বলেছেন। বরং একটা সত্য সামনে এল যে কমিউনিস্ট পার্টি অনেক শৃঙ্খলাবদ্ধ পার্টি। এবং যৌথ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতেই পার্টি পরিচালিত হয়। ব্যক্তিগত ঝোঁকের প্রশয় থাকে না।”

লোকসভা ভোটের আগে দলবদলের একাধিক ছবি ধরা পড়েছে। তৃণমূল থেকে কেউ বিজেপিতে গিয়েছেন। কেউ বিজেপি ছেড়ে শাসক শিবিরে যোগ দিয়েছেন। এই নিয়ে বিকাশবাবু বলেন, “বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। দু’জনেরই অভিন্ন কর্মসূচি। বরং আমি তো বলি, তৃণমূল ও বিজেপি হল বাপের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ি। এক জায়গায় গোঁসা হলে অন্য জায়গায় চলে যায়।” তৃণমূলের জনগর্জন সভাকে কটাক্ষ করেন বিকাশবাবু। বলেন, সভার নামের মধ্যে স্পষ্ট যে এটা জনসমাবেশ নয়। যাঁরা গর্জন করতে পারেন, তাঁদের সভা। যাঁরা গুন্ডামি করতে পারেন, তাঁরা গর্জন করতে পারেন।

দল বললে কি এবার যাদবপুর থেকে প্রার্থী হবেন বিকাশ ভট্টাচার্য? এই নিয়ে প্রবীণ বাম নেতা জানান, তিনি এবার প্রার্থী হতে চান না বলে দলের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।

Follow Us