
কলকাতা: ভোটের আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বেড়েছে বরাদ্দ। ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত ৫০০ টাকা করে ঢুকতেও শুরু করে দিয়েছে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে। শুধু লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নয়, আশা কর্মী থেকে সিভিক ভলান্টিয়র সকলেরই ভাতা ১ হাজার টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। যদিও প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলছেন, এত কিছুর পরেও তৃণমূলের জন্য ভোট লক্ষ্মী প্রসন্ন হবেন না। সুর চড়ালেন ইমাম-মোয়াজ্জেম ভাতা না বাড়া নিয়ে। তাঁর সাফ কথা, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পেরেছেন বাংলার মুসলমানরা আর তাঁকে ভোট দেবে না। সেটা বুঝেই আর ইমাম-মোয়াজ্জেমদের ভাতা বাড়েনি।”
এদিকে বিরোধীরা বরাবারই বলেন বঙ্গে সংখ্যালঘুই ভোট তৃণমূলের সাত রাজার ধন মানিক। এরইমধ্যে এবার শাসকের সেই শক্তিশালী ভোটব্যাঙ্কের ক্ষয় নিয়ে অধীর কথা বলতেই স্বভাবতই তা নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অধীরের যদিও সাফ কথা, ছাব্বিশের ভোটের রাজনীতির নজর থাকছে মুর্শিদাবাদেই। এদিকে এই মুর্শিদাবাদে রয়েছে ২২ বিধানসভা। যাঁর সিংহভাগই সংখ্যালঘু ভোট। শেষ বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ২০টি আসন। বিজেপি পেয়েছিল ২টি আসন।
অন্যদিকে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের নিরিখে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে ১৪ আসনে। কংগ্রেস এগিয়ে ৪ আসনে। বিজেপি এগিয়ে ৩ আসনে, আর সিপিএম এগিয়ে ১ আসনে। এই মুর্শিদাবাদেই সংখ্যালঘু ভোট ৬০ শতাংশের বেশি। এবার আবার একেবারে নতুন পার্টি খুলে মাঠে নেমে পড়েছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর জোরালো দাবি খেলা এবারে তিনি ঘোরাবেনই। জোট নিয়েও চলছে জোর দরকষাকষি। এমতাবস্থায় ইমাম-মোয়াজ্জেমদের ভাতা না বাড়ায় তার ছাপ মুর্শিদাবাদের আঙিনায় কতটা পড়ে সেটাই দেখার। অন্যদিকে রাজ্যের নানা প্রান্তেই যদিও মুসলিম সমাজের বহু মানুষের পাশাপাসি ইমাম-মোয়াজ্জেমরা ভাতা না বাড়ায় সরাসরি তাঁদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন।