
কলকাতা: মহিলা ভোট এ রাজ্যে বড় ফ্যাক্টর। গত কয়েকটি নির্বাচনে শাসক দলের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে মহিলা ভোটব্যাঙ্ক। বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভান্ডার ফ্যাক্টর তৃণমূলের ভোটে যে বড় লক্ষ্মী লাভের কারণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিজেপিও গত লোকসভা নির্বাচনে চেয়েছিল মহিলা ভোটকে হাতিয়ার করতে। তবে ধাক্কা খেতে হয়েছিল বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এবার তিলোত্তমা আন্দোলনের পর এবার মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে হাতিয়ার করেই নির্বাচনী কৌশল সাজাচ্ছে সিপিএম। তিলোত্তমা আন্দোলনে রাজপথে একাধিক প্রতিবাদ, মিছিল, বিক্ষোভে সামিল হতে দেখা গিয়েছিল মহিলা বাম নেতৃত্বদের। ভোট সুইংয়ে সেটাকে কাজে লাগাতেই মহিলা সশক্তিকরণে জোর দিচ্ছে সিপিএম।
মহিলা ভোট টানতে নির্বাচনী ইস্তেহারে এবার বিশেষ নজর আলিমুদ্দিনের। বরাবরই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ থাকে তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে। এবার ফোকাসে মহিলা সুরক্ষা ও ক্ষমতায়ন। শূন্য কাটাতেও তা অন্যতম ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করছে দলীয় নেতৃত্ব। ভোটে জিতলে বিধায়ক তহবিল থেকে তার এক তৃতীয়াংশ খরচ করা হবে নারী সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নে।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলছেন, “গোটা দেশের তুলনায় সর্বদাই পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের সম্মান-মর্যাদা অনেক উঁচুতে ছিল। এটা শুধু বামফ্রন্ট সরকারের জন্য নয়। বিদ্যাসাগর থেকে রামমোহনের সময় থেকে এটা একটা ধারা। নারী মুক্তির জন্য, সমান অধিকারের জন্য লড়াই হয়েছে। সমানাধিকার তখনই আসবে যখন তাঁর রাজনৈতিক, সামাজিক এবং আর্থিক সশক্তিকরণ হবে। এর জন্য আমরা সব সময় মেয়েদের অর্থনৈতিক কাজকর্মে যুক্ত হওয়ার কথা বলি।”
মেয়েদের জনসংযোগ বাড়াতে কয়েকমাস আগে থেকেই অভিনব পদক্ষেপ নেয় সিপিএম। কিউআর কোডের মাধ্যমে পাড়ায় পাড়ায় মেয়েদের ব্রিগেডে যোগ দেওয়ার প্রচার শুরু করে। নির্বাচনী ইশতেহারে নারী সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নের উপর জোর বাড়িয়ে মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে কাজে লাগাতে মরিয়া আলিমুদ্দিন।