
কলকাতা: জোটের জল কোনদিকে গড়াচ্ছে তাই যেন এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু থেকে শুরু করে, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, অন্যদিকে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী থেকে শুরু করে সকলেই বলছিলেন আলোচনা চলছে। এরইমধ্যে সেলিমের সঙ্গে বৈঠক করে ফেললেন হুমায়ুন কবীর। মিটিং থেকে বেরিয়ে তাঁর সাফ কথা, বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে সদর্থক মিটিং হয়েছে। তবে খোঁচা দিতে ছাড়ছে না তৃণমূল-বিজেপি। বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলছেন, সবই তো মোঘল সাম্রজ্য। হুমায়ুনও ছিল মোঘল সাম্রাজ্যে, আবার সেলিমও ছিল। কুণাল ঘোষ বলছেন, “বলছে আমি মন বুঝতে গিয়েছি। যত অতৃপ্ত আত্মা আছে ওরা বলছে এসো হাতে হাত ধরি। কিন্তু আমরা ওসব ভাবছি না। আমরা বিপুলভাবে জিততে চলেছি।”
এরপরই সরাসরি সেলিমকে একহাত নিয়ে কুণাল বলেন, যেখানে বিজেপির নেতারা থাকেন। বিজেপির নেতারা বৈঠক করেন, থাকেন, খাওয়া-দাওয়া করেন। সেখানে গিয়ে বৈঠক করেছেন মহম্মদ সেলিম। ওনার আচরণ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়ার সামিল।”
তোপ দাগছেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষও। কটাক্ষের সুরেই বলছেন, হুমায়ুন আর সেলিম এক হ্যা। বাবরি মসজিদের নির্মাতা হুমায়ুন কবীর, প্রধান পৃষ্ঠপোষক মহম্মদ সেলিম। অন্যদিকে সেলিম পাল্টা বিজেপি ও তৃণমূলকে একহাত নিয়েছেন। বলছেন, “এই হুমায়ুন কবীর বিজেপিতে গিয়ে লোকসভার প্রার্থী হল। সেই আবার রাতরাতি যখন ফিরে এল তখন তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে বিধায়ক করে দিল। এসব নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। আর কে কাকে চোখ মেরেছে তা নিয়ে তোমাদের চোখের বালি হচ্ছে।” একইসঙ্গে তাঁর সংযোজন, “সবই তলিয়ে নিতে হয়, বাজিয়ে নিতে হয়। তুমি জামা কিনতে গেলে টেনেটুনে দেখো মাপ ঠিক হবে কিনা, আর রাজনীতিতে তুমি মাপজোক করবে না! আমি প্রথমে চেখে দেখি। আসলে ও কি চাইছে। তারপর দলে আলোচনা হবে। তারপর সিদ্ধান্ত হবে। সবই তলিয়ে নিয়ে হয়, বাজিয়ে নিতে হয়।”