Joy Goswami: তৃণমূল জমানায় থ্রেট কালচারের শিকার জয় গোস্বামী? এবার বিস্ফোরক দাবি কবির
Joy Goswami Interview: জয় গোস্বামী জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানে তসলিমা বক্তৃতার শুরুতেই তাঁকে মঞ্চে আহ্বান করেন। ঠিক সেইসময় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। 'ধিক্কার' ধ্বনি ওঠে। কবি জানান, তসলিমাকে বিব্রত করতে চাননি, তাই ওই অনুষ্ঠান থেকে চলে এসেছেন। তবে, তিনি মনে করেন, ওই স্টেজে দাঁড়ানোর অধিকার ছিল না তাঁর। কারণ গত ১৫ বছরে তসলিমাকে ফিরিয়ে আনার জন্য একটা গদ্য বা কবিতাও লেখেননি। তাই, কবি মনে করেন, যাঁরা ধিক্কার দিয়েছেন ঠিকই করেছেন।

কলকাতা: তৃণমূল জমানায় বারবার থ্রেট কালচারের অভিযোগ সামনে এসেছে। কখনও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে, কখনও চলচ্চিত্র জগতে। এবার সাহিত্যজগতেও থ্রেট কালচারের অভিযোগ ( Threat Culture in Literature) । টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক দাবি করলেন কবি জয় গোস্বামী (Joy Goswami)। তাঁর অভিযোগ, সাহিত্যক্ষেত্রে হুমকি প্রথার প্রচলন ছিল। তাহলে কি এই হুমকি সংস্কৃতির শিকার হয়েছেন কবিও? কী জানালেন টিভি৯ বাংলা-কে?
শনিবার থেকেই জয় গোস্বামীকে নিয়ে জোর চর্চা চলছে। তসলিমা নাসরিনের (Taslima Nasrin) বইপ্রকাশ অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অনুষ্ঠানের মাঝে তাল কাটে। কবি জয় গোস্বামী-র মঞ্চে ওঠা নিয়ে তুমুল বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। তৃণমূল ঘনিষ্ঠতার কারণেই দর্শকদের একাংশের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। বাধ্য হয়ে মঞ্চে না উঠেই বাড়ি ফিরতে হয় তাঁকে। এবার এই ঘটনায় মুখ খুলেছেন কবি।
কী ঘটেছিল তসলিমার অনুষ্ঠানে?
ঠিক কী ঘটেছিল অনুষ্ঠানে সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন জয় গোস্বামী। টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তসলিমার অনুষ্ঠানে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তসলিমা নিজেই ফোন করেছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে তসলিমাকে নিয়ে লেখা একটি কবিতাও পাঠ করার কথা ছিল তাঁর। কবি বলেন, “তসলিমার সঙ্গে আমার ১৯৮৬ সাল থেকে ৪০ বছর যোগাযোগ রয়েছে। তিনি কলকাতায় যখন ছিলেন, নতুন কবিতা লিখলে, বই লিখলে আমাকে দিতেন । আমিও দিতাম। কলকাতায় যখন তসলিমা আসছেন ২০ বছর পর, তখন ওসমান মল্লিক নামে এক তরুণ আমার বাড়িতে আসেন, আমাকে আমন্ত্রণ জানান। ঠিক সেইসময় তসলিমাও আমাকে দিল্লি থেকে ফোন করে অনুষ্ঠানে যেতে বলেন। আমি যখন বললাম অনুষ্ঠানে গিয়ে কী করতে পারি, বক্তৃতাও দিতে পারব না। তবে, তসলিমাকে নিয়ে যে কবিতা লিখেছি, তা পাঠ করতে পারি। তসলিমাও আমাকে কবিতা পাঠ করতে বলেন।”
জয় গোস্বামী জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানে তসলিমা বক্তৃতার শুরুতেই তাঁকে মঞ্চে আহ্বান করেন। ঠিক সেইসময় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। ‘ধিক্কার’ ধ্বনি ওঠে। কবি জানান, তসলিমাকে বিব্রত করতে চাননি, তাই ওই অনুষ্ঠান থেকে চলে এসেছেন। তবে, তিনি মনে করেন, ওই স্টেজে দাঁড়ানোর অধিকার ছিল না তাঁর। কারণ গত ১৫ বছরে তসলিমাকে ফিরিয়ে আনার জন্য একটা গদ্য বা কবিতাও লেখেননি। তাই, কবি মনে করেন, যাঁরা ধিক্কার দিয়েছেন ঠিকই করেছেন।
আক্ষেপ জয় গোস্বামীর
তসলিমার ফেরার খবর শুনে অপরাধবোধে ভুগছিলেন কবি। দিন কয়েক আগে এই বিষয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন। কেন গত বছরগুলোয় তসলিমাকে ফেরাতে ‘এক লাইনও লেখেননি,’ তাও বলেছিলেন। আবারও সেই আক্ষেপের সুর তাঁর গলাতে শোনা গেল। তিনি জানান, ওই মঞ্চে সেই আক্ষেপের কথাই বলতে গিয়েছিলেন। তবে, তাঁকে বারবার ধিক্কার দেওয়া হলেও, বারবার বিক্ষোভের মুখে পড়তে হলেও আবারও তিনি তসলিমার অনুষ্ঠানে যাবেন। এই বিষয়ে বলেন, “তসলিমা যদি অনুষ্ঠান করেন, যদি আমাকে আমন্ত্রণ করেন, কোন দল করছেন, তা আমি দেখব না। আমায় না ডাকলেও যাব। আবার কেউ য়দি ধিক্কার দেন, তাও মাথা পেত নেব।”
সাহিত্যেও থ্রেট কালচার?
এরপরই জয় গোস্বামী জানান, কয়েক বছর ধরে তিনি মুদ্রণ জগত থেকে দূরে রয়েছেন। একটাও কবিতা বা তাঁর লেখা কোনওকিছুই কোথাও ছাপা হয়নি। কবির দাবি, তিনি নিজে গিয়ে প্রকাশন সংস্থাগুলিকে বলে এসছিলেন, যেন তাঁর লেখা কোথাও ছাপা না হয়। এরপরই বিস্ফোরক দাবি করেন জয় গোস্বামী। বলেন, “স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে, চলচ্চিত্র ক্ষেত্রে হুমকি প্রথার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, একদিন এটাও প্রমাণ পাওয়া যাবে সাহিত্যক্ষেত্রে হুমকি প্রথার প্রচলন ছিল। তবে, তা আটকাতে আয়ুক্ষয় করতে পারব না, অল্পবয়সীদের বাঁচাতে পারব না।”
তাহলে কি হুমকি সংস্কৃতির শিকার হয়েছেন জয় গোস্বামীও? কে থ্রেট দিয়েছিলেন? এরকম একাধিক প্রশ্ন উঠছে। কবি জয় গোস্বামী অনেক কিছুই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর কথায়, সময় আসলেই একে একে সব সত্যি সামনে আসবে।
