‘বিয়েই হয়নি অথচ নেমন্তন্ন খেলেন মুখ্যমন্ত্রী!’ নুসরতের বিবাহ বিভ্রাটে সরগরম রাজনীতি

'বিয়েই হয়নি অথচ নেমন্তন্ন খেলেন মুখ্যমন্ত্রী!' নুসরতের বিবাহ বিভ্রাটে সরগরম রাজনীতি
ফাইল ছবি

কলকাতা: বিয়েই হল না অথচ সেই বিয়েতে আবার নেমন্তন্ন খেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(CM Mamata Banerjee)! নুসরত (Nusrat Jahan)-প্রসঙ্গে এবার মুখ খুললেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।

শুক্রবার ইকোপার্কে নুসরতের বিয়ে প্রসঙ্গে বললেন, “বিরাট বড় প্রতারণা। বিয়ে হয়নি বলছেন, অথচ সেই বিয়েতে আবার নেমন্তন্ন খেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী! বাংলার রাজনীতিতে এটা একটা বড় প্রতারণা! তাঁকে সংরক্ষণ করছেন আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” উল্লেখ্য, ‘বিয়ে’র পর বসিরহাটের সাংসদ হিসাবে শপথগ্রহণের সময় নুসরত নিজের নামের পিছনে নিখিলের জৈন পদবিও ব্যবহার করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ক্রমশই জটিল হচ্ছে নুসরতের বিবাহ জট। নুসরত দাবি করেছেন, নিখিল জৈনের সঙ্গে বিয়েই হয়নি তাঁর। বরং সেটা ছিল লিভ ইন সম্পর্ক। এবার পাল্টা বিবৃতি দিলেন নিখিল জৈন। তুরস্কে বিয়ে হয়েছিল নুসরত-নিখিলের। কলকাতায় হয় বউভাত। বারবার বলা সত্ত্বেও ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন করতে রাজি হননি নুসরত। বিয়ের আইনি স্বীকৃতি দেননি নুসরত।

সাংসদ অভিনেত্রী নুসরত জাহানের বিবাহ বিভ্রাটে এখন শোরগোল গোটা রাজ্যে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নুসরত আদৌ বিবাহিত না অবিবাহিত? জনপ্রতিনিধি কি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন? বুধবার বিস্ফোরক বিবৃতিতে নুসরত দাবি করেছিলেন, নিখিলের সঙ্গে তাঁর আইনত বিয়েই হয়নি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা বিবৃতি দেন নিখিল জৈনও। নিখিল লিখেছেন, “আমি নুসরতকে বিয়ের প্রস্তাব দিই। নুসরত আমার প্রস্তাব গ্রহণ করেন। ২০১৯ সালে তুরস্কে ডেস্টিনেশন ম্যারেজ, কলকাতায় রিসেপশনও হয়। আমরা স্বামী-স্ত্রীর মতোই থাকতাম। স্বামী হিসাবে সব দায়িত্ব পালন করেছি। খুব কম সময়ে নুসরত বদলে যান। ২০২০ সালে শ্যুটিংয়ের পর থেকেই নুসরতের আচরণে বদল আসতে শুরু করে। কেন, সেটা সব থেকে ভাল নুসরতই জানেন।”

নিখিল আরও জানিয়েছেন, “বারবার বলতাম বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করতে। প্রত্যেকবার নুসরত এড়িয়ে গিয়েছেন। ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর ঘর ছাড়েন নুসরত। সঙ্গে নিয়ে যান গুরুত্বপূর্ণ নথি ও জিনিস। বালিগঞ্জের ফ্ল্যাটে থাকতে শুরু করেন। তারপর থেকে স্বামী-স্ত্রী আমরা আর থাকিনি।”

২০২১ সালের ৮ মার্চ নুসরতের বিরুদ্ধে আলিপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন তিনি। বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন হওয়ায় তিনি ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু বলবেন না। কিন্তু নুসরতের বিবৃতি তা বাধ্য করেছে। নিখিল আরও লেখেন, “বিয়ের পর দেখি নুসরতের ওপর রয়েছে গৃহঋণের বোঝা। সেই অর্থ আমার পারিবারিক অ্যাকাউন্ট থেকে ওঁর অ্যাকাউন্টে দিই। ধারণা ছিল, মাসিক কিস্তিতে সেই টাকা ফেরত দেবেন। নুসরত আমার পারিবারিক অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়ার কথা বলছেন। আসলে ওঁর ঋণের টাকাই ফেরাচ্ছিলেন। এখনও মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়া বাকি রয়েছে। আমার ব্যাঙ্ক ও ক্রেডিট কার্ড স্টেটমেন্টই তার প্রমাণ।”

আরও পড়ুন: স্ত্রীও যুক্ত সেই একই অপারেশনে! মালদায় চিনা গুপ্তচর সন্দেহে ধৃত ব্যক্তির থেকে উঠে এলে আরও বিস্ফোরক তথ্য

নুসরত তৃণমূল সাংসদ। তাই বিষয়টি নিয়ে কাটাছেঁড়া করতে নেমে পড়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি নেতা অমিত মালব্যর টুইট, “সংসদে জনপ্রতিনিধি হিসাবে নিখিল জৈনের সঙ্গে বিয়ের কথা নথিভুক্ত রয়েছে। তৃণমূল সাংসদ কি মিথ্যা বলছেন?” সেদিনের শপথ নেওয়ার ভিডিয়ো টুইট করে প্রশ্ন মালব্যর।