
কলকাতা: এসএসসি নবম থেকে দ্বাদশ নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কুন্তল ঘোষকে তলব করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট। মঙ্গলবার তাঁর হাজিরার দিন ছিল। সেই মতো এদিন সকালে সিজিও কমপ্লেক্সে ই ডি দফতরে হাজিরা দিতে আসেন কুন্তল। মূলত এসএসসি দুর্নীতি মামলায় জামিনে মুক্ত। তিনটে পনের মিনিট নাগাদ হাতে একটি প্লাস্টিকে সমস্ত নথি নিয়ে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন তিনি। মূলত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কুন্তল ঘোষের নাম উঠে আসে।
এই মামলাতেই দিন কয়েক আগে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে তলব করেছিল ইডি। পাশাপাশি ১০০-র বেশি চাকরিপ্রার্থী, যাঁরা টাকা দিয়েও চাকরি পাননি, তাঁদেরকেও ডাকা হয়েছে বলে খবর। তাঁদের কাছ থেকে আরও একাধিক বিষয় জানতে চাইছেন আধিকারিকরা। বলাইবাহুল্য এতদিন পর আবার কুন্তল-মণীশকে তলবে, তাতে নতুন করে, এই মামলায় গতি আনতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
এসএসসি দুর্নীতি মামলায় মূলত ‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসাবে কুন্তল ঘোষের নাম উঠে আসে। চার্জশিটে তদন্তকারীরা কুন্তলের বিরুদ্ধে উল্লেখ করেন, কুন্তল এই চাকরি দুর্নীতির টাকা লেনদেনের “মিডলম্যান” বা মূল সংগঠকদের একজন ছিলেন। চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রার্থীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই টাকার মনি ট্রেল খুঁজতে গিয়ে তাঁর নাম সামনে আসে। ২০২৩ সালে কুন্তল ঘোষকে গ্রেফতার করেন ইডি আধিকারিকরা। জেলে থাকাকালীন কুন্তল দাবি করেছিলেন, তাঁর কাছে একটি ডায়েরি রয়েছে। দুর্নীতির টাকা কাকে, কখন, কতটা দেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত সেই ডায়েরিতে লেখা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছিলেন। তা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। ১৯ মাস পর ২০২৪ সালে জামিনও পান তিনি। সেক্ষেত্রে আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, মামলার বিচার শেষ হতে অনেক সময় লাগতে পারে, তাই দীর্ঘদিন হেফাজতে রাখা ঠিক নয়।