
কলকাতা: কুম্ভমেলা চলাকালীন দিল্লি রেল স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে গঙ্গাসাগর মেলার জন্য এবার পৃথক ব্যবস্থা শিয়ালদহ ডিভিশন তথা পূর্ব রেলের। এবার শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার যে কোনও প্ল্যাটফর্ম থেকে তীর্থযাত্রীরা গঙ্গাসাগরগামী ট্রেনে উঠতে পারবেন না। তাঁদের জন্য দক্ষিণ শাখার ১৫ এবং ১৬ নম্বর প্ল্যাটফর্ম নির্দিষ্ট করে দেওয়া হল।
এমনকি, তীর্থযাত্রীরা শিয়ালদহ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে যেদিক থেকে প্রবেশ করবেন, সেদিক থেকে বের হতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট করে গেট ভাগ করে দেওয়া হল। যাতে কোনওভাবেই বিশৃঙ্খলা বা পদপিষ্ট বা অন্যান্য কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা যাচ্ছে। শুক্রবার শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা সাংবাদিক বৈঠকে এই বিষয়টি জানিয়ে দেন। বৈঠকে তিনি বলেন, দক্ষিণ শাখায় প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের ক্ষেত্রে ডান দিক থেকে অর্থাৎ মেট্রো স্টেশনের পাশ থেকে একটি অংশ খুলে দেওয়া হচ্ছে। সে দিক থেকে হোল্ডিং এরিয়া থাকছে। সেখানে শৌচাগার, অনুসন্ধান কেন্দ্র, টিকিট পরীক্ষক সহ একাধিক পরিষেবার রাখা হচ্ছে। ওই গেট দিয়েই তীর্থযাত্রীদের স্টেশনে প্রবেশ করতে হবে।
গঙ্গাসাগর থেকে ফেরার সময় ট্রেন থেকে নেমে বর্তমানে যেখান থেকে যাত্রীরা বের হন, সেদিক থেকেই তীর্থযাত্রীদের বের হতে হবে। তবে সে ক্ষেত্রে আলাদা করিডোর থাকবে তাঁদের জন্য। একইসঙ্গে ১৬ এবং ১৭ নম্বর প্ল্যাটফর্ম যেহেতু একইসঙ্গে, তাই তীর্থযাত্রী এবং সাধারণ যাত্রীদের চলাচলের জন্য প্ল্যাটফর্মের মধ্যিখান থেকে একটি লোহার গার্ডওয়াল বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে আরপিএফ জওয়ান সংখ্যা। গতবার ২০০ থেকে ২২০ জন জওয়ান থাকলেও এবার শিয়ালদহ স্টেশন এবং কাকদ্বীপ স্টেশন সহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থাকছে ৪০০ জওয়ান। এছাড়াও, গঙ্গাসাগরের জন্য থাকছে বিশেষ ট্রেন পরিষেবা। ১০ জানুয়ারি থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ডাউন লাইনে ৫৬টি এবং আপ লাইনে ৭০টি ট্রেন দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ আপলাইনে দৈনিক গড়ে ১০টি ট্রেন এবং ডাউনলাইনে গড়ে ৮টি ট্রেন চলবে। এছাড়াও, বিপর্যয় মোকাবিলা, জিআরপি এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে টিকিট পরীক্ষক স্টেশনগুলিতে থাকবে বলেও এদিন ডিআরএম জানিয়েছেন।