
কলকাতা: হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করাটাই যেন কাল হয়েছে। বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না। প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে শিবিরের অন্দরেই। বুধবার সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে এই ইস্যুতে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় সিপিএমের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে। আর এবার সেই একই প্রশ্নে উত্তাল হল আলিমুদ্দিন। পরিস্থিতি এমনই হয় যে শরিকদলের নেতাকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় বৈঠক কক্ষ ছেড়ে।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টেয় সব শরিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে বামফ্রন্টের বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকে হুমায়ুন প্রসঙ্গে শরিকদের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ পায় বলে সূত্রের খবর। শরিকদের একটা বড় অংশ সাফ জানিয়ে দেয়, বামফ্রন্টকে মানুষ বিশ্বাস করে, অন্য কোনও দলকে নয়।
দেখা যায়, বৈঠক শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই আলিমুদ্দিন থেকে বেরিয়ে যান ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা নরেন চট্টোপাধ্যায়। আবার মিনিট দশেক পরে ফিরে আসেন, ফের বেরিয়ে যান। পরে সাংবাদিকদের জানান, তাঁর দলের সেক্রেটারিয়েট মিটিং আছে, তাই তাঁকে বেরিয়ে যেতে হয়েছে। এমনকী মহম্মদ সেলিমের নাম নিয়েও তীর্যক মন্তব্য শোনা যায় নরেনের মুখে। কংগ্রেসের সিদ্ধান্তেও এদিন তীব্র মতানৈক্য তৈরি হয় বাম শরিকদের মধ্যে।
বুধবার একই প্রশ্ন ওঠে সিপিএমের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে। প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে চলে সেই বৈঠক। সেখানেই নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে আসন সমঝোতার যে কোনও প্রশ্নই নেই। কেন হুমায়ুনের সঙ্গে কথা বলতে গেলেন রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম? সেই প্রশ্ন তোলেন সম্পাদকমণ্ডলীর অধিকাংশ সদস্য। সেলিম জানান, কয়েকটি কৌশলগত কারণে হুমায়ুনের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন ছিল। সূত্রের খবর সেলিম জানিয়েছেন যে, হুমায়ুন কবীর বারবার সিপিএমের সঙ্গে কথা বলতে চাইছিলেন। সেই কারণে কথা বলা। তবে কোনও কমিটমেন্ট (প্রতিশ্রুতি) করা হয়নি।