কলকাতা: সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের বিভিন্ন পুর এলাকায় আশানুরূপ ফল হয়নি তৃণমূলের। তালিকায় রয়েছে কলকাতা পুরনিগমের বেশ কিছু ওয়ার্ডও। সূত্রের খবর, কলকাতা পুরনিগম-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুর এলাকার কিছু কিছু পকেটে ভোটের ফল খারাপ হওয়া নিয়ে ঘনিষ্ঠ মহলে উষ্মাপ্রকাশ করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার কয়েক দিনের মধ্যেই এবার পুর এলাকায় কিছু কিছু জায়গায় কিছু কিছু জায়গায় দলের আশানুরূপ ফল না হওয়া নিয়ে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার নবান্নের বৈঠকে পুর-পরিষেবা নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। এরই মধ্যে আবার রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভার চেয়ারম্যানদের নিয়ে আগামী সোমবার ফের বৈঠক ডেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিঃসন্দেহে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
উল্লেখ্য, এবারের লোকসভা ভোটে কলকাতা পুরনগিমের মধ্যে ৪২টি ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। শুধু তাই নয়, বেশ কিছু পুরসভা এলাকাতেও তৃণমূলের ফল বেশ খারাপ হয়েছে। সূত্রে খবর, প্রথমে এই নিয়ে ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন দলের সেকেন্ড ম্যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবার সরব খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, এর আগেও অভিষেকের কথার প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে নবান্নে। করোনা কালে সল্টলেক পুরসভার নির্বাচন নিয়ে যখন প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে, ঠিক তখনই অভিষেকের গলায় শোনা গিয়েছিল ভিন্ন সুর। আলিপুরের প্রশাসনিক ভবনের সামনে দাড়িয়ে অভিষেক বলেছিলেন, তিনি মনে করেন এই সময় পুর ভোট হওয়া উচিৎ না। পরে পিছিয়ে গিয়েছিল পুরসভার ভোট। এভাবেই অভিষেকের মতামতের প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছিল নবান্নের সিদ্ধান্তে।
কিন্তু এত বড় জয়ের পরও শহরাঞ্চলের কিছু জায়গায় ভোট বিপর্যয় কেন ভাবাচ্ছে তৃণমূলকে? একটু পিছিয়ে গেলে দেখা যাবে, বাম আমলেও কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন শহরগুলিতে প্রতিষ্ঠান বিরোধী ভোট প্রথম দানা বেঁধেছিল এবং শক্তি সঞ্চয় করেছিল। শাসন ক্ষমতায় ১৩ বছরের মাথায় শহরাঞ্চলে সেই ভোট নিয়েই কি সিঁদুরে মেঘ দেখছে তৃণমূল? তাই কি এই তৎপরতা? এমন প্রশ্ন ইতিমধ্যেই উঁকি মারতে শুরু করেছে রাজ্য রাজনীতির অন্দরমহলে।