Suvendu Adhikari: ‘মমতাই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী, যিনি নিজের সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে যান’, DA নিয়ে খোঁচা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর
Suvendu Adhikari On DA : "সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে হবে। কীভাবে এরিয়ার দিয়ে ডিএ মেটাতে হবে, তার পুরো রূপরেখা সুপ্রিম কোর্ট বলে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বারবার বিচার ব্যবস্থাকে অপমান করেছে। মার্চের মধ্যে ২৫ শতাংশ টাকা না দেন, তাহলে আইনের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।"

কলকাতা: ডিএ আর বিচারাধীন বিষয় নেই। মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের দাবি খারিজ করে দিলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। শুভেন্দুর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টে DA ক্লোজড চ্যাপ্টার। সল্টলেকে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, “সাংবাদিক বৈঠকে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন ডিএ মামলা এখনও বিচারাধীন। আমি ওনাকে বলতে চাই, এটা আর এখন বিচারাধীন বিষয় নয়। ইটস্ অ্যা ক্লোজড চ্যাপ্টার বাই দ্য সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে হবে। কীভাবে এরিয়ার দিয়ে ডিএ মেটাতে হবে, তার পুরো রূপরেখা সুপ্রিম কোর্ট বলে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বারবার বিচার ব্যবস্থাকে অপমান করেছে। মার্চের মধ্যে ২৫ শতাংশ টাকা না দেন, তাহলে আইনের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।”
কেবল শুভেন্দু অধিকারী নন, সল্টলেকে বিজেপির সদর দফতরে বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য সরকারি কর্মীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। রাজ্য সরকারকে খোঁচা দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী, যিনি নিজের সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোর্টে যাচ্ছেন। এসআইআর-এর জন্য এই লোক মরেননি। তারা DA হতাশার জন্য মারা গিয়েছেন। তিনি তো এসআইআর-এর জন্য সুপ্রিম কোর্টে গেলেন, DA-এর জন্য সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারতেন।”
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে সাংবাদিকরা DA মামলা প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী ‘বিচারাধীন বিষয়’ বলে এই নিয়ে কোনও মন্তব্যই করতে চাননি। তাঁর কথায়, “ম্যাটার ইজ় সাবজুডিস, আমি এই ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করব না।” আর মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকেই হাতিয়ার করেন বিরোধী দলনেতা।
প্রসঙ্গত, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেয়, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ২৫ শতাংশ ডিএ মেটাতে হবে। সেই বকেয়া ডিএ দিতে হবে এখনই। ২০০৮ সাল থেকে যে এরিয়ার রয়েছে, সেটা যে কোনও মূল্যে মিটিয়ে দিতে হবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অল ইন্ডিয়া প্রাইজ় ইনডেস্কে মেনে দিতে হবে। রাজ্যের তরফ থেকে বারবার বলা হচ্ছিল, রাজ্যের পঞ্চম বেতন কমিশন, বিশেষত ‘রিভিশন অফ্ পে অ্যান্ড অ্যালোয়েন্স রুল’ অনুসারে তারা ডিএ দিতে চায়। রাজ্যের বক্তব্য, রাজ্য ও কেন্দ্রের আর্থিক কাঠামোয় তফাৎ রয়েছে। কিন্তু আজকে সুপ্রিম কোর্টের তরফে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে AICPI অনুযায়ী ডিএ দিতে হবে।
এরপরই ডিএ মেটানোর দাবিতে স্মারকলিপি জমা করতে নবান্নে গিয়েছিল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। সেখানে অনুমতি না মেলায় তাঁরা ট্রাফিক গার্ডেই স্মারকলিপি দেন। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, “সাবজুডিস কোনটা, আর কোনটা জুডিশিয়ারি, সেটা বোঝা উচিত। রাজ্য সরকার বলছে আর্থিক সংকুলান নেই, অথচ এমন এমন প্রকল্পের ঘোষণা হচ্ছে, যার সঙ্গে শ্রমের কোনও বিষয় নেই।”
