মানবিকতার খাতিরে পাশে দাঁড়ালাম বলে বিজেপি যদি আমাকে জেলে ঢোকাবে মনে করে। তাহলে স্বাগত জানাচ্ছি। ক্য়াচ মি ইফ ইউ ক্যান।
রিভিউ করবে আমাদের আইনজীবীরা। যাদের চাকরি বাতিল করা হয়েছে, তারা শিক্ষামন্ত্রীকে আবেদন জানিয়েছেন। আমি যদি সেখানে উপস্থিত থাকি, তাহলে তারা খুশি হবে। আমি ৭ এপ্রিল ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তাদের কাছে যাব। তাদের কথা শুনব। বলব, ধৈর্য হারাবেন না। মানসিক চাপ নেবেন না: মুখ্যমন্ত্রী।
আমরাও রেকর্ড খুঁজে বের করব, ২০১৬ তে কারা কারা মন্ত্রী ছিলেন। কোনও একটা জেলা তো আমি জানি, কীভাবে চাকরি হয়েছে। তবে আমাদের কাছে কোনও রেকর্ড নেই। কারও কাছে থাকলে দেবেন: মুখ্যমন্ত্রী।
হাইকোর্টে প্রথম এই ভার্ডিক্ট দিয়েছিলেন, তিনি বিজেপির এমপি হয়েছে। আমি নামটা জানি না ঠিক, পরে জেনে নেব। আমি কাউকে অ্যাটাক করার জন্য জানি না। আমি বিশ্বাস করি এটা বিজেপি করিয়েছে: মমতা
আমি ভুলও হতে পারি। একজন বিচারকের বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হওয়ার পর যদি তাঁকে শুধু বদলি করা হয়। তাহলে আমাদের শিক্ষকদেরও বদলি করতে পারত: মমতা।
মমতার প্রশ্ন, “২৫ হাজার শিক্ষক যদি পড়াতে না পারে তাহলে চিকিৎসক থেকে শুরু করে ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করবে কারা? শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা? শিক্ষার মান দমিয়ে দিতে চাইছেন না তো? বাংলাকে পিছিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা শিক্ষার সুযোগ না দিয়ে দমিয়ে দিচ্ছেন না তো?”
“যাদের চাকরি বাতিল হয়েছে, তাদের মধ্যে ১১৬১০ জন ক্লাস নাইন-টেনে পড়াতেন। ৫৫৯৬ জন ইলেভেন- টুয়েলভে পড়াতেন। খুব গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস। অনেকে খাতা দেখছে। কে পড়াবে ? সামনে পরীক্ষা। কী করে সেই পরীক্ষা নেওয়া হবে? কোলাপ্স করতে চাইছে সিপিএম। সিপিএম তো চিরকুটে চাকরি দিতেন। তার তো তদন্ত হয় না?” বামেদের নিশানা করলেন মমতা।
বিকাশবাবুর নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত। উনি বৃহত্তম আইনজীবী আমি সুপারিশ করব: মমতা।
‘মানবিকভাবে তাদের পাশে দাঁড়াতে এসেছি।’ চাকরিহারাদের সম্পর্কে বললেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ২৫ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল হলে, তাঁদের সঙ্গে কয়েক লক্ষ মানুষ যুক্ত আছে।
তিন মাসের মধ্যে যে নিয়োগ প্রক্রিয়া করার কথা বলা হয়েছে, তা করা হবে সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে। বললেন মুখ্যমন্ত্রী। সে ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
আমি এবার একটা রাজনৈতিক কথা বলছি। মধ্যপ্রদেশের ব্যাপম মামলায় কী হয়েছে? ৫০ জনকে খুন করা হয়েছে? কী শাস্তি হয়েছে অপরাধীদের? আমাদের রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে তো জেলে রেখে দিয়েছে: মমতা
আমাদের স্টাডি করতে দিলে খুঁজে বের করতে পারতাম। আত্মরক্ষার তো একটা সুযোগ দেওয়া উচিত। শিক্ষা ব্যবস্থাকে কোলাপ্স করিয়ে দেওয়া কি বিজেপি সরকারে টার্গেট? বাংলাকে আর কত টার্গেট করা হবে?: মমতা
আর একটি অংশ পড়ে মমতা বলেন, “যাদের চাকরি বাতিল হয়েছে, তাদের বয়সে ছাড় দেওয়া হবে, তারা আবার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে।”
কোর্টের রায়ের অংশ পড়ে শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী। একটি অংশ উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘যারা আগেই চাকরি পেয়েছে, তাদের কোনও টাকা দিতে হবে না।’
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, মুখ্যসচিব এবং আইনজীবীদের নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, “আজকের সুপ্রিম কোর্টের রায় আমি পড়ে দেখলাম। বিচার ব্যবস্থার উপর আমাদের ভরসা আছে। বিচারপতিদের সম্মান করি। দেশের নাগরিক হিসেবে বিচারপতিকে শ্রদ্ধা জানিয়েই বলছি, এই রায় মেনে নিতে পারছি না।”