Jagannath Chatterjee: ‘রাজ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন ছাত্রছাত্রী-অভিভাবকরা’, কেন বললেন মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়?
Jagannath Chatterjee at Conclave: উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা। তাই রাজ্যের বাইরে পড়াশোনার জন্য পাঠানো হচ্ছে। এমনটাই বলছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। মন্ত্রী বলেন, "শিক্ষাঙ্গন যদি পড়াশোনা ছাড়া বাকি সবকিছুর জন্য ব্যবহৃত হতে শুরু করে, তখন অভিভাবকরা কীভাবে ভাববেন যে ছেলেকে কোনও ভালো জায়গায় পাঠাব। আমি জেলার ছেলে। কলেজ পাশ করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য এসেছিলাম।"

কলকাতা: তৃণমূলের (TMC) আমলে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে। নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে। এরই মধ্যে রাজ্যে সরকার বদল হয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলায় ১০০ দিন পূর্ণ করে ফেলেছে বিজেপি সরকার(BJP)। মাত্র এই কয়েকদিনেই বাংলার মানুষের জন্য একাধিক প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য সরকার। দুর্নীতি রুখতে জ়িরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু, শিক্ষাক্ষেত্রে যে ‘দুর্নীতি’-র দাগ লেগেছে, তা মুছে দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় সরকার, কী কী পরিকল্পনা রয়েছে, টিভি৯ বাংলার কনক্লেভে (TV9 Conclave) উপস্থিত থেকে সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানালেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Jagannath Chatterjee)।
‘চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করেছি’
তৃণমূল আমলে শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি ও আগামীদিনের রূপরেখা প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ” এতটা পতন না হলে আমাদের উথ্থান হতো না। শিক্ষা দিয়েই পতন শুরু হয়েছে। সেক্ষেত্রে কাজটা সত্যিই চ্যালেঞ্জিং। সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের পশ্চিমবঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলিকে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠা করা। পাঁচ দশক ধরে যা শেষ হয়েছে, তার কোর্স কারেকশন সহজের হওয়ার নয়। কিন্তু চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করেছি। পশ্চিমবঙ্গের হারানো গৌরবকে পুনরুদ্ধার করার যে কাজ ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার করছে, তার অন্যতম ইন্ডেক্স হবে শিক্ষার গৌরব ফেরানো।
আস্থা হারাচ্ছেন ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকরা
উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা। তাই রাজ্যের বাইরে পড়াশোনার জন্য পাঠানো হচ্ছে। এমনটাই বলছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। মন্ত্রী বলেন, “শিক্ষাঙ্গন যদি পড়াশোনা ছাড়া বাকি সবকিছুর জন্য ব্যবহৃত হতে শুরু করে, তখন অভিভাবকরা কীভাবে ভাববেন যে ছেলেকে কোনও ভালো জায়গায় পাঠাব। আমি জেলার ছেলে। কলেজ পাশ করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য এসেছিলাম। আমার পরের প্রজন্ম আমার ভাই চেন্নাই চলে গিয়েছিল। এর পরের জেনারেশন, অর্থাৎ আমার ছেলেকে স্কুল পাশ করার পর গ্র্যাজুয়েশনের জন্য হয়তো অন্য কোথাও পাঠিয়ে দেব। এটা প্রবণতা। কারণ উচ্চশিক্ষার যে প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী, তাঁদের অভিভাবকরা আস্থা হারাচ্ছেন। সেই আস্থা, বিশ্বাসকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এবার ভালো কিছু হবে। রাজ্য সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে তা হতেও শুরু করেছে।”
সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো
সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো, শিক্ষকের অভাব- বারবার এই অভিযোগ উঠে এসেছে। এই বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ” পশ্চিমবঙ্গে সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো খারাপ বা শিক্ষকের অভাব, তা পুরোপুরি সত্যি নয়। আমাদের অপবিত্র হয়ে যাওয়া শিক্ষক নিয়োগের মধ্যে বলছি সরকারি গুণগত প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যা ঝাড়াই-বাছাই হয়, প্রাইভেট স্কুলগুলিতে তা হয় না। সরকারি স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের প্রক্রিয়া কঠোর। যদি পবিত্র উপায়ে, যা আমাদের লক্ষ্য, সেই উপায়ে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ আমরা করতে পারি, ঠিকমতো পঠন-পাঠনের জন্য পাঠদানে বাধ্য করতে পারি, এমনিতেই শিক্ষার মান বাড়তে বাধ্য। যা সময়সাপেক্ষ।”
