
কলকাতা: শূন্য মুছতে মরিয়া বামেরা। আসন্ন বিধানসভা ভোটে সেটাকে লক্ষ্য রেখেই স্ট্র্যাটেজি সাজাচ্ছে সিপিএম। গত দুবারের লোকসভা নির্বাচন হোক কি বিধানসভা নির্বাচন, খাতা খুলতে পারেনি বামেরা। এ রাজ্যে ক্রমেই ফিকে হয়েছে লাল। শিবরাত্রির সলতে হয়ে জ্বলছে শুধুমাত্র তাহেরপুর পুরসভা। ছাব্বিশের ভোটে বামেরা একাই লড়বে, নাকি জোটসঙ্গী হিসেবে কংগ্রেস আর আইএসএফের সঙ্গে হাত ধরবে তা এখনও চূড়ান্ত নয়। শরীক দলগুলোর সঙ্গে ইতিমধ্যেই আসন সমঝোতা নিয়ে বৈঠক করছে সিপিএম।
কোন অঙ্ক কষছে বামেরা?
শেষ দু’বারের লোকসভা নির্বাচন আর একুশের বিধানসভা নির্বাচন থেকে শূন্য হাতে ফেরা বামেরা এবার শিক্ষা নিচ্ছে। জেলায় জেলায় নিজেদের ভোটব্যাঙ্কের সমীক্ষা চালিয়ে নিজেদের স্ট্র্যাটেজি ঠিক করেছে সিপিএম। জোর দেওয়া হচ্ছে প্রবল সম্ভাবনাময় আসন, সম্ভাবনাময় আসন, লড়াকু আসনগুলির উপর।
এই স্ট্র্যাটেজি নিয়েই ছাব্বিশের নির্বাচনে খেলতে নামছে বামেরা। সূত্রের খবর, নিজেদের খাতা খুলতে প্রবল সম্ভাবনাময় আসনগুলোতে হেভিওয়েট প্রার্থী দেওয়ার অঙ্ক কষছে আলিমুদ্দিন। অর্থাৎ বাম-বিরোধী দলগুলোর হেভিওয়েট প্রার্থীর বিরুদ্ধে নিজেদের হেভিওয়েট প্রার্থী নয়, বরং প্রবল সম্ভাবনাময় আসনগুলোতে পরিচিত মুখ দাঁড় করিয়ে খাতা খোলার স্ট্র্যাটেজি।
বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলছেন, “বামদের বাদ রেখে বিজেপি-তৃণমূলের মধ্যে যাতে একটা বাইনারি করা যায়, এটাই ছিল বিজেপি, তৃণমূল সহ আরএসএসের মনোভাব। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তৃণমূল ও বিজেপি, দুই দলকেই অপছন্দ করছে।”
কোন কোন আসনে নজর?
বামেদের তরুণ ব্রিগেডে পরিচিত মুখ মীনাক্ষী মুখার্জী, দীপ্সিতা ধর, সৃজন ভট্টাচার্য, শতরূপ ঘোষ, সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়রা। অন্যদিকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, সুজন চক্রবর্তীরা হেভিওয়েট নাম। এঁদের দিয়েই শূন্য মোছার প্রাথমিক পরিকল্পনা শুরু বামেদের অন্দরমহলে। ২০২১ বিধানসভায় চারটে আসনে দ্বিতীয় হয়েছিল সিপিএম। বাকি আসনগুলিতে তৃতীয়। ভগবানগোলা এসেছিল ২১.১৫ শতাংশ ভোট। ডোমকলে ৩৫.৫৭ শতাংশ ভোট। জলঙ্গিতে ২০.০৬ শতাংশ ভোট। যাদবপুরে ২৭.৫ শতাংশ ভোট।
এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি আসনে নজর দিচ্ছে সিপিএম। তার মধ্যে উল্লখযোগ্য বালি, উত্তরপাড়া, দমদম উত্তর, রানীনগর। তালিকায় রয়েছে মানিকচক, হরিশচন্দ্রপুর, পাণ্ডুয়া, কামারহাটি। এই এলাকাগুলোতে জনসংযোগে বিশেষ ভাবে নজর দিচ্ছেন নেতা কর্মীরা। শূন্য মুছতে অপেক্ষাকৃত কম দুর্বল আসনগুলোকেই হাতিয়ার করতে চাইছে আলিমুদ্দিন। এর মধ্যে অনেক জায়াগাতেই আগে কংগ্রেস প্রার্থী দিয়েছিল। সমঝোতা হয়েছিল। এবার সমঝোতা হলে তখন আসান ভাগাভাগি হতে পারে। আপাতত নিজেরাই প্রার্থী বাছাইয়ে জোর দিচ্ছে বামেরা। এমনটাই খবর সূত্রের।
বিজেপি নেতা শঙ্কর ঘোষ যদিও খোঁচা দিতে পারছেন না। কটাক্ষের সুরে বলছেন, “বর্তমান রাজনীতিতে বামেদের প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। দিল্লিতে তৃণমূলের সঙ্গে, বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওরা। মানুষ বুঝে গিয়েছে বামপন্থীদের মূল লক্ষ্য তৃণমূলের এজেন্ট হয়ে বিরোধীদের ভোট কাটা।”