SIR in Bengal: চূড়ান্ত তালিকা বেরল, চূড়ান্ত বাদ হল না, আপাতত ৬৫ লাখ
SIR final list: গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়ে। এর মধ্যে মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ভোটার এবং একাধিক জায়গায় নাম থাকা ভোটার ছিল। এদিন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল, আরও ৭ লক্ষের বেশির নাম বাদ পড়েছে। অর্থাৎ সবমিলিয়ে ৬৫ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। আরও ৬০ লক্ষের নাম অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে।

কলকাতা: কেউ বলেছিলেন, এক কোটি। কেউ বলেছিলেন, ৮০ লক্ষের বেশি। এসআইআর-র চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় কতজনের নাম বাদ যাবে, তা নিয়ে বিজেপি নেতারা নানা মন্তব্য প্রথম থেকেই করছিলেন। শাসকদল তৃণমূল আবার অভিযোগ করে, কমিশনের অফিসে বসে জোর করে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক এই চাপানউতোরের মধ্যেই শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলায় এসআইআর-র চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আর সেই তালিকায় দেখা গেল, ৬৫ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। তবে এখনও ৬০ লক্ষ নাম অমীমাংসিত রয়েছে। সেখান থেকে কত নাম বাদ যেতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা জারি রইল।
গত বছরের অক্টোবরের শেষে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা করে কমিশন। তারপর গত ৪ নভেম্বর থেকে এনুমারেশন ফর্ম বিলি শুরু করেন বিএলও-রা। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়ে। এর মধ্যে মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ভোটার এবং একাধিক জায়গায় নাম থাকা ভোটার ছিল। এদিন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল, আরও ৭ লক্ষের বেশির নাম বাদ পড়েছে। অর্থাৎ সবমিলিয়ে ৬৫ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। আরও ৬০ লক্ষের নাম অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। তাঁদের নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সব নথি খতিয়ে দেখার পর আরও কত নাম বাদ পড়তে পারে, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।
দিন তিনেক আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, প্রথমে ৫৮ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছিল। পরে লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির নাম লুকিয়ে লুকিয়ে নাম বাদ দিয়েছে। তবে আর ৫০ লক্ষ নাম বাদ দিতে পারবে না। কিন্তু, সবমিলিয়ে ৮০ লক্ষ হবে। এদিন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর তৃণমূল নেতা তন্ময় ঘোষ বলেন, “এসআইআর-র নামে হেনস্থা ও বাঙালিদের উপর বিদ্বেষ যে চরম জায়গায় পৌঁছেছে, সেটা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। আর কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে রাজনৈতিকভাবে, আইনগতভাবে আন্দোলন হবে। এবং বিভিন্ন জায়গায় ধরে ধরে যে নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত, তা বন্ধ করতে হবে। বিজেপি এভাবে নাম বাদ দিয়ে জয়ের যে স্বপ্ন দেখছে, তা সফল হবে না।”
৬৫ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ায় কোন রাজনৈতিক দল লাভবান হতে পারে, তা নিয়েও জল্পনা বাড়ছে। এই নিয়ে বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ভোটার তালিকা প্রকাশের পর কার লাভ, কার ক্ষতি, তা বিচার করার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের নয়। ভোটার তালিকা প্রকাশের পর, সেই তালিকা নিয়ে ভোটযুদ্ধে নেমে পড়াটাই রাজনৈতিক দলের কাজ। আমরা সেটা করব। কিন্তু, আমরা এটুকু বুঝতে পারছি, পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান সমাজের নাম কেটে দেওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টে মামলাটিকে নিয়ে গিয়ে যেভাবে বিচারকদের হাতে এই বিচার করার ভার দিয়ে দিলেন, তাতে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এই পুরো প্রক্রিয়াটা ব্যুমেরাং হতে চলেছে।”
