পথকুকুরদের জন্য খরচ হবে বই বিক্রির টাকা, এবারের বইমেলায় বিশেষ কবিতার বই ‘ডুবতে ডুবতে’
কীভাবে তাঁদের যত্ন নেওয়া যায়, তা নিয়েই নানা সময়ই কোমর বেঁধে নেমে পড়েন ইন্দ্রাণী। তবে এবারে কলম ধরলেন। পাতায় পাতায় লিখে ফেললেন কবিতা। আর সেই কবিতাই মলাট পেয়ে বই আকার ধারণ করে। ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে চলা এবারের কলকাতা বইমেলায় প্রকাশ পাচ্ছে ইন্দ্রাণীর সেই কবিতার বই ডুবতে ডুবতে। যে বইটি পথকুকুরটদের উৎসর্গ করলেন কবি নিজেই।

ছোট বেলা থেকেই পশু-পাখিদের প্রতি আলাদা টান অনুভব করেন নয়ের দশকের জনপ্রিয় কবি ইন্দ্রাণী দত্ত পান্না। তবে তার মধ্যে কুকুরদের প্রতি ইন্দ্রাণীর ভাললাগাটা একটু বেশিই। সেই কারণেই ছোটবেলা থেকে পথকুকুরদের নিয়ে নানা চিন্তা-ভাবনা তাঁর। কীভাবে তাঁদের যত্ন নেওয়া যায়, তা নিয়েই নানা সময়ই কোমর বেঁধে নেমে পড়েন ইন্দ্রাণী। তবে এবারে কলম ধরলেন। পাতায় পাতায় লিখে ফেললেন কবিতা। আর সেই কবিতাই মলাট পেয়ে বই আকার ধারণ করে। ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে চলা এবারের কলকাতা বইমেলায় প্রকাশ পাচ্ছে ইন্দ্রাণীর সেই কবিতার বই ডুবতে ডুবতে। যে বইটি পথকুকুরটদের উৎসর্গ করলেন কবি নিজেই।
বই নিয়ে ইন্দ্রাণী লিখেছেন, আবার একটি কবিতার বই। নিজের বই প্রকাশের প্রস্তুতির সময় বুকের মধ্যে একধরনের ভয় ও উত্তেজনা দ্রিমি দ্রিমি বাজতে থাকে। ভাবি পাঠকের আগ্রহ ও প্রশ্রয় পাব তো? এই নবম বইটি উৎসর্গ করলাম পথ কুকুরদের যারা নীরব শিক্ষক। এই শীতকালে অথবা বর্ষায় রাতে প্রায়ই বাড়ি ফিরি চোখে জল নিয়ে। সব কুকুরকে আমার বড় আপন মনে হয়। ভিজতে ভিজতে অথবা ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে প্রায় খালি পেটে খোলা আকাশের নিচে গুটিসুটি হয়ে শুয়ে থাকা নির্মমভাবে প্রহৃত, অত্যাচারিত এসব পথের বন্ধুদের দেখলে এতই বিচলিত বোধকরি যে চোখে জল আসে। ওদের জন্য যতটা পারি করি। এই নিঃস্বার্থ প্রহরীরা আমাদের মূল্যবান প্রতিবেশী। এরা ভালোবাসতে জানে। সামান্য ভালোবাসার বিনিময়ে অনেকটা পাই। হৃষ্টপুষ্ট পথের কুকুর দেখলে নিশ্চিন্ত হই যে তার পেট ভরাবার কেউ আছে। সেইসব মানুষরা আমার প্রণম্য। আমার এই বন্ধুদের বিরুদ্ধে সবরকম একপেশে ফতোয়ার নিন্দা করি। এত কষ্ট পেয়েও মানুষের প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্যে এরা স্থির ও অচঞ্চল।

কবি- ইন্দ্রাণী দত্ত পান্না।
Tv9Bangla-কে ইন্দ্রাণী জানিয়েছেন, ‘ছোটবেলা আমার পশু-পাখিদের প্রতি আমার আলাদা ভাললাগা রয়েছে। কিন্তু তার মধ্য়ে কুকুরদের প্রতি আমার একটু বেশিই ভাললাগা। কিন্তু সম্প্রতি দেখতে পাচ্ছি কুকুরদের প্রতি মানুষদের অসহিষ্ণুতা এত বেড়ে যাচ্ছে, বহু মানুষ পথ কুকুরদের বাঁচানোর চেষ্টা চলছে। তবুও আমাদের মতো পথপশুদের ভালবাসার সংখ্যাটা বড় হচ্ছে না। তাই যতটুকু সম্ভব, ততটুকুই করার প্রচেষ্টা। সেই চেষ্টা থেকেই এই বই বিক্রির অর্থের বেশ কিছুটা আমার এই বন্ধুদের জন্য খরচ হবে। সবার কাছে এটাই অনুরোধ, ওদের কথাও একটু ভাবা উচিত। এই পৃথিবীটা ওদেরও।’
