
কলকাতা: তিনি রাজ্যের প্রাক্তন ডিজিপি। তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভার নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। এবার পুরোদস্তুর রাজনৈতিক নেতার ভূমিকায় রাজীব কুমার। সোমবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলে দেখা গেল তাঁকে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকে থাকলেন। রাজীব কুমার রাজ্যের ডিজিপি থাকাকালীন বিএলও-দের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই রাজীব কুমারকে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে পাঠিয়ে কি বড় চাল চালল তৃণমূল? উঠছে প্রশ্ন।
বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে গত বছরের ৪ নভেম্বর। রাজীব কুমার চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজ্য পুলিশের ডিজি পদে ছিলেন। এনুমারেশন ফর্ম পূরণ, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিএলও-দের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। সেই সময় কমিশন জানায়, বিএলও-দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা রাজ্যের কাজ। বিএলও-দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আবার সুপ্রিম কোর্টও রাজ্যকে নির্দেশ দেয়।
এসআইআর ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিডিও অফিসে হামলার ঘটনা সামনে আসে। গত ১৪ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় এসআইআর শুনানি চলাকালীন বিডিও অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়। তাতে নাম জড়ায় তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলামের। শুধু ফরাক্কা নয়, রাজ্যের একাধিক জায়গায় এসআইআর-র কাজে নিযুক্ত আধিকারিকদের উপর হিংসার অভিযোগ ওঠে। এইসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের ডিজিপি-কে শোকজ করেন। ব্য়ক্তিগতভাবে হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দেন। সেইসময় অবশ্য রাজ্যের ডিজিপি পদে বদল হয়েছে। অন্তর্বর্তী ডিজিপি হয়েছেন পীযূষ পাণ্ডে। তবে রাজীব কুমার ডিজিপি থাকাকালীন-ই ঘটনাগুলি ঘটেছিল। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে সরব হয়েছিল বিরোধীরা।
সেই রাজীব কুমার অবসরের পর তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভার প্রার্থী হয়েছেন। আর এদিন তাঁকে পুরোদস্তুর তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসেবে জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গেল। সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও ফিরহাদ হাকিম। বৈঠক থেকে বেরিয়ে জ্ঞানেশ কুমারকে তোপ দেগে ফিরহাদ হাকিম বলেন, “একটাও রোহিঙ্গা প্রমাণ করতে পারেননি। আপনি ভোটারদের হয়রানি করেছেন। কমিশনের জন্য মারা গিয়েছে মানুষ।” মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার নিশানা করেন চন্দ্রিমাও। তবে বৈঠক থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করেননি প্রাক্তন ডিজিপি।
রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, রাজ্যসভার প্রার্থী হওয়ার পর পুরোদমে রাজনীতির ময়দানে নেমে পড়লেন প্রাক্তন ডিজিপি। আবার প্রশ্ন উঠছে, একসময় যাঁর অধীনে থাকা পুলিশের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছিল, তাঁকে কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে পাঠিয়ে কি চাল চালল তৃণমূল? তৃণমূলের আর এক রাজ্যসভার প্রার্থী মেনকা গুরুস্বামীকেও এদিন সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করতে দেখা যায়।সবমিলিয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার দুই প্রার্থীই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।