Ritabrata Banerjee: ‘জোর করে অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ঢুকেছিলেন’, ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে দায়ের হল অভিযোগ
Kunal Ghosh On Ritobrata Banerjee: মেট্রোপলিটনের চার তলা ভবনের তিনটে তলায় ছিল তৃণমূলের কার্যালয়। কিন্তু পালাবদলের পর এই ভবনের মালিকও আদালতে মামলা করেন। তা নিয়ে কিছু জটিলতা চলছিল। ঋতব্রত আগেই জানিয়েছিলেন, বাড়ির মালিকের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে। তাঁর দাবি, আগে তৃণমূল কংগ্রেস যাঁরা পরিচালনা করতেন, তাঁরা ঠিক ভাবে পরিচালনা করতে পারছিলেন না।

কলকাতা: মেট্রোপলিটনের তৃণমূল ভবন কার? তা নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে উত্তাপ চড়ল। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ দেখা গেল ঋতব্রতপন্থীরা পৌঁছলেন তৃণমূল ভবনে। সেখানে গিয়ে বৈঠক করলেন কথা বললেন বাড়ি মালিকের সঙ্গে। সাংবাদিকদের সামনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহারা দাবি করলেন, তাঁরাই তো আসল তৃণমূল। তাই কার্যালয়ে তো আসবেনই। কিন্তু সাতটা নাগাদ বেরিয়ে যাওয়ার সময়ে দেখা গেল তালা ঝুলিয়ে গেলেন ঋতব্রতরা। তার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সেখানে পৌঁছলেন কুণাল ঘোষরা অর্থাৎ কালীঘাট তৃণমূল। তাঁরা প্রথমে তালা খুলতে উদ্যত হন। কিন্তু ততক্ষণে আবার সেখানে পৌঁছে যায় আধা সেনা। কুণাল বললেন, “ওরা তো তালা লাগিয়ে চলে গেলেন। আর আধা সেনা এল, সেটার গার্ড দিল!”
সাড়ে আটটার কিছু পর প্রগতি ময়দান থানার উদ্দেশে রওনা দেন কুণাল ঘোষরা। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা, অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, বিপ্লব রায়ের নামে অভিযোগ দায়ের করেন। থানা থেকে বেরিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “দলের নির্দেশে যা করার করেছি। পুলিশ দেখবে এগ্রিমেন্ট কী রয়েছে। আমাদের যে এগ্রিমেন্ট পেপার এখানে জমা দেওয়া ছিল, সেটা বলেছি। তা খতিয়ে দেখবে পুলিশ। অভিযোগ গ্রহণ করেছে পুলিশ। পুরনো ডেপুটেশন বার করে এগ্রিমেন্ট পেপার দেখিয়েছি। আমরা বৈধ পার্টি অফিস চেয়েছি। যারা এসে তালা লাগিয়েছিল, পুলিশ তাদের ফলো আপ টিম হিসেবে কাজ করেছে।”
কুণাল ঘোষদের অভিযোগপত্রে লেখা রয়েছে, “ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা জোর করে পার্টি অফিসে কোনও অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ঢুকেছেন। সম্পত্তি নষ্ট করার প্রবণতা ছিল।”

উল্লেখ্য, মেট্রোপলিটনের চার তলা ভবনের তিনটে তলায় ছিল তৃণমূলের কার্যালয়। কিন্তু পালাবদলের পর এই ভবনের মালিকও আদালতে মামলা করেন। তা নিয়ে কিছু জটিলতা চলছিল। ঋতব্রত আগেই জানিয়েছিলেন, বাড়ির মালিকের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে। তাঁর দাবি, আগে তৃণমূল কংগ্রেস যাঁরা পরিচালনা করতেন, তাঁরা ঠিক ভাবে পরিচালনা করতে পারছিলেন না। বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলে এই ভবনে কার্যালয়ের কাজকর্ম তাঁরাই পরিচালনা করবেন বলে ঋতব্রত জানান। কিন্তু কালীঘাট তৃণমূলের দাবি, এগ্রিমেন্ট পেপার তাঁদের কাছেই রয়েছে।
‘আসল’ তৃণমূল কারা, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। যত দিন যাচ্ছে তৃণমূল অন্দরে তৈরি হওয়া সমান্তরাল অক্ষরেখা চওড়া হচ্ছে। ‘প্রতীক’ নিয়ে লড়াইয়ের পর তৈরি হয়েছে ভবনের দখলদারি নিয়েও। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন ঋতব্রতরা। তারপরই মেট্রোপলিটনে গিয়ে ভবনে বৈঠক, তারপর তালা লাগানো।
