
কলকাতা: এসআইআরে প্রথম যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়েছিল, তাতে দেখা যায় দুই মেয়ে এবং বিশেষভাবে সক্ষম ছেলের নাম বাদ পড়েছে। বিচারাধীন তালিকায় ছিল গৃহকর্তা, গৃহকর্ত্রী এবং গৃহকর্তার বৃদ্ধা মায়ের নাম। এবার দ্বিতীয় দফার তালিকা বা প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ হতে দেখা গেল, ওই তিনজনের নামও বাদ গিয়েছে।
জোড়াসাঁকো বিধানসভার অন্তর্গত কলকাতা পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ১৬১ নম্বর নেতাজি সুভাষ রোডের বাসিন্দা বিরজু সোনকার, যশোধরা সোনকার, প্রতিমা সোনকার। ১০ নম্বর পার্টের ভোটার ছিলেন তাঁরা। গৃহকর্ত্রী যশোধরা এবং তাঁর শাশুড়ি প্রতিমা জানালেন, ২০১৩ সাল থেকে তাঁরা ভোটার। ছেলে এবং মেয়েদের নাম গত বছর নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকায় তোলা হয়েছিল। এবার তাদের নামও বাদ পড়েছে।
বিএলও’র কাছে সঠিক নথি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে কর্ত্রী বলেন, সব ঠিক দেওয়ার পরও নাম কেন এল, না তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না তিনি। যথেষ্ট উদ্বেগে রয়েছেন তাঁরা। কারণ বাড়িতে বিশেষভাবে সক্ষম তাঁদের সন্তান। শুনানি কেন্দ্রে এই অবস্থায় ওই যুবককে নিয়ে যেতে হয়েছে বারবার। কিন্তু তারপরও নাম এল না। কেন নাম এল না, সেটা তাঁরা এখনও বুঝতে পারছেন না।
যখন থেকে জানতে পেরেছেন যে নাম নেই, তখন থেকেই উদ্বেগ নিয়ে বসে রয়েছেন ঘরে। এবার আর ভোট দিতে পারবেন কি না, সেটাও জানেন না। তাঁদের প্রশ্ন, নাম কি তোলা যাবে পরের ভোটার তালিকায়? অন্য কোথাও পাঠিয়ে দেওয়া হবে না তো?
১৬১ নম্বর নেতাজি সুভাষ রোডের আরও দু’জন বাসিন্দা, সন্তোষ সোনকার এবং তাঁর মা প্রেমাদেবী সোনকারের নামও বাদ পড়েছে। শুনানি কেন্দ্রে মা এবং ছেলে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু দেখা গেল, তাঁদের দু’জনের নামও বাদ গিয়েছে। তবে সন্তোষ সোনকারের স্ত্রী আশা সোনকারের নাম রয়েছে তালিকায়। সব সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হবে, এটা ভেবে চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।
এই দুটি পরিবারের এতগুলো মানুষের নাম বাদ গেল কেন? উত্তরে বিএলও বিনয় কুমার ওঝা বলেন, “এই দুটি পরিবার নির্বাচন কমিশনে যে যে নথি চেয়েছিল, তার একটাও সঠিক দিতে পারেনি।” সেই কারণে নাম বাদ গিয়েছে বলে দাবি বিএলও-র।