
কলকাতা: জমজমাট রবিবাসরীয় প্রচার। আজ রাস্তায় শাসক-বিরোধীর হেভিওয়েটরা। তার মধ্যেও হল সৌজন্য বিনিময়। প্রচারে বেরিয়ে মুখোমুখি মানিকতলার বিদায়ী বিধায়ক সুপ্তি পাণ্ডে বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়। এদিন মেয়ে শ্রেয়ার জন্য প্রচারে রাস্তায় নেমেছিলেন সুপ্তি। পথে দেখা হয়ে যায় বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়ের সঙ্গে। এক সময়ের সতীর্থ তাঁরা। তাই সৌজন্য বিনিময়ও হল।
যেদিন তাপস রায় বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, তার আগের মুহূর্তের কথা আবেগপ্রবণ হয়ে সাংবাদিকদের সামনে বলেন সুপ্তি। তিনি বলেন, “সেদিন তাপস আমাকে নমস্কার করে, দাদার গলায় মালা দিয়েছিলেন। কিছু অভিমানের কারণে হয়তো ও জয়েন করে। যখন জয়েন করে, তখন বলে বৌদি আমি চললাম। আমি তখন বলেছিলাম, এটা তোমার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তুমি কোথায়, যাবে না যাবে।” কথার রেশ টেনেই বললেন, “তার মানে তো আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কে কোনও প্রভাব পড়তে পারে না, যে ওকে দেখলেই আমাকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এটা হয় না কখনও।” সম্পর্কের সমীকরণ বোঝাতে গিয়েই বললেন, “আমি তো আজকে ওকে বললাম, তুই এমন দিনে এলি, কচুরিটা খাওয়াতে পারলাম না।”
তাপসও বলেন, “এই সৌজন্যটাই তো আসল ব্যাপার। এটাই বাংলার ঐতিহ্য। এটাই বাংলার সংস্কৃতি, পরম্পরা। যে কোনও কারণেই এখন অনেকক্ষেত্রে উধাও হয়ে গিয়েছে। ” সাধন পাণ্ডে ও তাপস রায়- উভয়েই ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসেছেন এবং দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসে সহকর্মী ছিলেন। উত্তর কলকাতার রাজনীতিতে দুজনেই ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী মুখ। রাজনৈতিক মহলে এটি পরিচিত যে, উত্তর কলকাতায় সাধন পাণ্ডে ও তাপস রায়ের মধ্যে আধিপত্যে কখনও কখনও ঠান্ডা লড়াইও হয়েছে। সাধন পাণ্ডে যখন মানিকতলার বিধায়ক ছিলেন, তখন তাপস রায় ছিলেন পাশের কেন্দ্র বরাহনগরের বিধায়ক। সাধনপাণ্ডের মৃত্যুর পর ওই কেন্দ্রে বিধায়ক ছিলেন সুপ্তি। এবার তাঁদের মেয়ে শ্রেয়াকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল।