Anandapur Fire: শরীর হয়েছে কাঠকয়লা, কীভাবে সম্ভব DNA ম্যাচিং?
Anandapur Fire: থানায় গিয়ে পুলিশের কাছ থেকেও তারা কোনও সদুত্তর পাচ্ছেন না। স্বজনহারাদের প্রশ্ন শুনে তাঁদের মাথা নীচু! শুধু বলা হচ্ছে, একটা জেনারেল ডায়েরি করতে। আর তার ভিত্তিতে দেওয়া হচ্ছে একটা হলুদ স্লিপ। তাতে লেখা কয়েকটা নম্বর। থানার তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যে অবস্থায় দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে, তাতে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া কোনওভাবে শনাক্তকরণ সম্ভব নয়।

কলকাতা: আনন্দপুরের জোড়া গুদাম এখন শ্মশান! চতুর্দিকে ছাই আর সেই ছাইয়ের ভিড়ে পরিজনদের ভিড়ের মিশে কারোর স্ত্রী, কারোর বাবা, কারোও বা জ্যেঠু। তাঁদের কারোর স্বামী বা কারোর ছেলে সেই গোডাউনেই কাজ করতে এসেছিলেন রবিবার সকালে। তাঁদের আর কারোর খোঁজ মিলছে না। ও এখনও পর্যন্ত গোডাউনের ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে তিনটে পোড়া কঙ্কাল-সহ ১৬ টা ঝলসে যাওয়া দগ্ধ দেহাংশ! আর কিছু দগ্ধ হাড়! দুটো ব্যাগে ভরে তা পাঠানো হয়েছে কাটাপুকুর মর্গে। যাঁদের দেহ মোটামুটিভাবে উদ্ধার হয়েছে, তা আপাতত শনাক্ত হয়েছে, কিন্তু পোড়া কালো হয়ে যাওয়া শরীরটার ছাই! সেটা কার? সেটা বোঝার আপাতত এখন একটাই উপায়। ডিএনএ পরীক্ষা। তাই নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা আপাতত ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় থানায়।
কিন্তু থানায় গিয়ে পুলিশের কাছ থেকেও তারা কোনও সদুত্তর পাচ্ছেন না। স্বজনহারাদের প্রশ্ন শুনে তাঁদের মাথা নীচু! শুধু বলা হচ্ছে, একটা জেনারেল ডায়েরি করতে। আর তার ভিত্তিতে দেওয়া হচ্ছে একটা হলুদ স্লিপ। তাতে লেখা কয়েকটা নম্বর। থানার তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যে অবস্থায় দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে, তাতে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া কোনওভাবে শনাক্তকরণ সম্ভব নয়। আর ডিএনএ পরীক্ষার সময়েই এই হলুদ স্লিপ নিয়ে আসতে হবে পরিজনদের। ততদিন কোনওভাবেই পরিজনরা জানতে পারবেন না, আদৌ তাঁর স্বজনের মৃত্যু হয়েছে কিনা!
কিন্তু কীভাবে সেই পরীক্ষা সম্ভব?
প্রশাসনের তরফে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে পূর্বের ইতিহাস, জ্ঞানেশ্বরী ও স্টিফেন কোর্টের সময়ে যেটা হয়েছিল, অর্থাৎ দাঁতের ওপরের স্বচ্ছ ও প্রতিরক্ষামূলক স্তর অর্থাৎ দাঁতের এনামেল থেকে পাল্প নিয়ে ডিএনএ প্রোফাইলিং করা হয়।
অনেকক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা আত্মীয়দের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দাঁত মাজার ব্রাশও নিয়ে আসতে বলেন। কারণ সেক্ষেত্রে ব্রাশে মাড়ি, গালের ভিতরের কোষ উঠে লেগে থাকে।
এটাকে সাধারণ বলে সরাসরি ম্যাচিংয়ের পদ্ধতি। যদি তাতে সম্ভব না হয়, তাহলে ‘ইন ডিরেক্ট ম্যাচিং’ পদ্ধতি অবলম্বন করেন বিশেষজ্ঞরা। রক্তের নমুনা নিয়ে ডিএনএ প্রোফাইলিং করতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ডিএনএ পরীক্ষা অত্যন্ত সাবধানের সঙ্গে করতে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব সতর্কভাবে ডিএনএ পরীক্ষা করতে হয়। প্রোফাইলিং করার সময়ে ক্রোমোজোমের মধ্যে থাকা ‘শর্ট ট্যান্ডেম রিপিট’ আলাদা হয়ে গেলে, প্রথমবারটা ব্যর্থ। ফলত, ফের পরীক্ষা করতে হবে।
কিন্তু যদি ডিএনএ প্রোফাইলিং করার নমুনা পাওয়া না যায় তাহলে? এক বিশেষজ্ঞ জানাচ্ছেন, সেক্ষেত্রে সুপার ইম্পোজিশন পদ্ধতি ব্যবহার করতে হয়। দেহের মাথার খুলির ছবি তুলে, জীবিত অবস্থায় সেই ব্যক্তির ছবির সঙ্গে ম্যাচিং করতে হয়। কিন্তু এই সবই খুব সময়সাপেক্ষ। অন্ততপক্ষে ৩ সপ্তাহ কিংবা ১ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে! ততদিন দাঁতের দাঁত কামড়ে পড়ে থাকা ছাড়া আর উপায় নেই পরিজনদের।
