
কলকাতা: এক প্রতীক-qউরে রক্ষা নেই, সঙ্গে সৃজন! সৃজন যাচ্ছেন তৃণমূলে, এই জল্পনাই যেন অস্বস্তি ক্রমেই বাড়িয়ে চলেছে বামেদের। শুরুতে এ নিয়ে মুখ না খুললেও শেষ পর্যন্ত মুখ খুললেন সৃজন। যদিও আগেই যোগাযোগ করা হয়েছিল সৃজনের বাবা অরিন্দম ভট্টাচার্যের সঙ্গে। ছেলের দলবদল নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা কাটাতে তিনি স্পষ্টই বলছেন, ছেলের আদর্শ ও রাজনৈতিক নিষ্ঠার উপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি মনে করেন সৃজন কোনওভাবেই বামপন্থা ছেড়ে কোনও দক্ষিণপন্থী দলে যোগ দেবেন না। প্রতীকের সঙ্গে দীর্ঘদিন রাজনীতি করার সুবাদেই হয়তো সৃজনের নাম এই বিতর্কে জড়ানো হচ্ছে বলে তিনি মনে করছেন। কিন্তু যা অর্থহীন বলেই মত তাঁর। কিন্তু কী বলছেন সৃজন?
টিভি৯ বাংলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল সৃজনের সঙ্গে। দলবদল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে খানিক আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, “যাঁরা এগুলি ভাসিয়ে দিচ্ছেন তাঁরা হয় অর্বাচীন, নাহলে শয়তান। এটাই আমার সংক্ষেপিত উত্তর।” তাহলে কি দীর্ঘদিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজনীতি করা প্রতীক উর-সৃজন জুটিতে শেষ পর্যন্ত ফাটল? প্রতীক উর ছাড়ছেন বামেদের হাত? সৃজন বলছেন, “আমি তো সিপিএম করি। আমি এখন পর্যন্ত জানি প্রতীকূর সিপিএম নেতা, এসএফআই-এর প্রাক্তন নেতা। তিনি প্রকাশ্যে কোথাও বলেলনি তিনি দল ছাড়ছেন। তিনি প্রকাশ্যে বললেনি তিনি অন্য দলে যোগদান করেছেন। এই মুহূর্তে অন্য কোনও গালগল্পে মাথা দেওয়া,অনর্থক চর্চা করা অর্থহীন।”
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে সিঙ্গুরের মতো কঠিন পিচে লড়াই করে পরাজিত হয়েছিলেন সৃজন। কিন্তু তাতে দমে না গিয়ে ছাত্র-যুব সংগঠনকে চাঙ্গা করতে নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। তাই এখন তাঁর দলবদলের জল্পনায় কান দিতে চাইছেন না তাঁর অনুগামীরাও। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিরন্তর চর্চা চললেও সবটাই হেসে উড়িয়ে দিতে চাইছেন তরুণ বাম নেতা। যদিও শেষ পর্যন্ত তার ‘কমরেড’ প্রতীক-উর নিয়ে দলের অবস্থান কী হয় সেদিকে নজর রাজনৈতিক মহলের।