
কলকাতা: ভারতের তিন বাহিনীর (বায়ু সেনা, নৌসেনা, স্থলসেনা) সঙ্গে তৃণমূলের কর্মী তথা ‘সৈনিকদের’ তুলনা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। দেশের জন্য যেমন এই তিন বাহিনী এক জোট হয়ে লড়াই করে জয় ছিনিয়ে নিয়ে আসে, ঠিক তেমনই তৃণমূলের এই ‘তিন বাহিনী’ একসঙ্গে কাজ করলে নির্বাচনে লড়াই করা আরও কতটা সহজ হবে তা বুঝিয়ে দেন তৃণমূলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’। এ দিন, গোষ্ঠী কোন্দল নিয়েও বার্তা দিয়েছেন তিনি।
আজ অর্থাৎ সোমবার মিলন মেলায় ডিজিটাল যোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখছিলেন অভিষেক। ভোটের আগে কীভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে সেই বার্তাই দিচ্ছিলেন তিনি। তৃণমূলের নম্বর টু তখনই বলেন, “আগে যুদ্ধ হত হাতি-ঘোড়ায়। আজ কীভাবে যুদ্ধ হয়? নেভি-আর্মি-এয়ারফোর্স। তৃণমূল কংগ্রেসকে তিনটে ভাগে ভাগ করেন, বুথে যাঁরা বসছে তাঁরা দলের সম্পদ, যাঁরা পতাকা লাগাচ্ছেন, মিছিলে হাঁটছেন, ফেস্টুন বাঁধছেন তাঁরা দলের আর্মি। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছেন তাঁরা দলের এয়ারফোর্স।” এরপর ডায়মন্ড-হারবারের সাংসদ বলেন, “এটা মাথায় রাখবেন। আর আমরা যাঁরা সংসদে লড়ছি, মানুষের সঙ্গে থাকছি তাঁরা নেভি। তৃণমূলের বুথ কর্মীরা যদি ইন্ডিয়ান আর্মি হয়, আমরা নেভি, আর সোশ্যাল মিডিয়ারা এয়ারফোর্স। তিনজনের মধ্যে পার্থক্য নেই।” অর্থাৎ তৃণমূলের তৃণমূল স্তরের কর্মী অভিষেকের ভাষায় লড়াই করছেন সেনা হয়ে, তেমনই ডিজিটালি যাঁরা লড়াই করছেন তাঁরা এয়ারফোর্সের মতো কাজ করেন আর সাংসদ বিধায়করা হলেন নৌসেনা তৃণমূলের। আর এরা সকলে এক গতিতে একভাবে কাজ করে তাহলে বিরোধীদের চূর্ণ বিচূর্ণ করতে সময় লাগবে না।
এ দিন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এও বুঝিয়ে দেন, কেউ যদি ভাল কাজ করেন দল তাঁর পাশে দাঁড়াবেন। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে দেবাংশু ভট্টাচার্যেরও উদাহরণ দেন তিনি। বর্তমানে দেবাংশু তৃণমূলের আইটি সেলের মাথা। সেই দেবাংশু কীভাবে উঠে এসেছেন সে কথাও বলেন তিনি। অভিষেক বলেন, “আমাদের মধ্যে যেন দ্বিমত না থাকে। দল অনুবীক্ষণ যন্ত্রের মতো কাজ করবে। কেউ ভাল কাজ করলে দলের নজরে সে পড়েই যাবে।”